বিএনপির চিন্তায় বিভাগীয় সমাবেশ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:২৮ এএম

বিভাগীয় সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এ ছাড়া রমজানের আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম বাড়ালে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দিতে পারে দলটি। পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসের আন্দোলন সংগ্রাম পর্যালোচনা করে রিপোর্ট তৈরি করে তা কেন্দ্রে জমা দেওয়া, কারামুক্ত নেতাদের সংবর্ধনা দেওয়া, তাদের মানসিক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।

নির্বাচনের পর দলের পুনর্গঠন, কাউন্সিলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের পুনর্গঠন কিংবা কাউন্সিল নিয়ে স্থায়ী কমিটির সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। তবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভাগীয় সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। তবে তার আগে কারাবন্দি নেতাদের মুক্ত করার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারা দেশের সাংগঠনিক রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকদের। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন। এটা চালিয়ে যাবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা বিভাগের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে বিভাগীয় সমাবেশ করার বিষয় নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে ৩০ জানুয়ারি খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ করার জন্য বলেছিলেন। তবে আমরা বলেছি এখনো নেতাদের অনেকে জামিন পাননি। কেউ কেউ জামিন পেলেও এলাকায় যেতে পারছেন না। তাই এখনই বিভাগীয় সমাবেশ করা সম্ভব নাও হতে পারে। সময় নিয়ে করলে সমাবেশ সফল করা যাবে। আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখব।’

কর্মসূচি দেওয়ার আগে বিএনপি কারামুক্ত নেতাদের খোঁজ-খবর নেওয়া, মানসিক শক্তি জোগাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাঠানো হচ্ছে কারামুক্ত নেতাদের ঘরে ঘরে। এরই অংশ হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার আগে ও পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছি। সবার খোঁজ-খবর নিয়েছি। আমিসহ অন্যান্য নেতা যার যার নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।’ গত বুধবার জামিনে মুক্ত পাওয়া বিএনপি নেতা আলালের বনানীর বাসায় গিয়েছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এদিকে নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মজিবর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার সাড়ে তিন মাস পর গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জামিনে মুক্তি পান। ওইদিন রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা হয়। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মুক্তির পর অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় নির্বাচনের আগে ও পরে দলের আন্দোলন সংগ্রাম, নতুন কর্মসূচি, সরকারের অবস্থানসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আলোচনা করেন। স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম চলমান রয়েছে। এ আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি চলতে থাকবে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সদ্য কারামুক্ত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২০ ফেব্রুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আন্দোলন সংগ্রামে কার কী ভূমিকা ছিল, কে ছিল না, কোথায় সাংগঠনিক ত্রুটি রয়েছে তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কারামুক্ত নেতাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, সংবর্ধনা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে আমরা কারামুক্ত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সবার খোঁজ-খবর রাখছি।’

সর্বশেষ গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে, ১৭ ফেব্রুয়ারি সব জেলা শহরে এবং ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সব উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এ ছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাদ জুমা ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ওই সব দেশের সীমান্তরক্ষীদের ছোড়া গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের স্মরণে সারা দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।

শূন্য জায়গা পূরণের প্রক্রিয়া চলছে : বিগত আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা নেতাদের মধ্য থেকে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কাজী ছায়েদুল আলম বাবুলকে ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ গত বুধবার ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামালকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে জিতে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও সমমনারা এ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সরকার পতন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর গত ৯ ও ১০ জানুয়ারি গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজপথে, হাটে, মাঠে, ঘাটে মানুষের কাছে প্রচারপত্র বিতরণের কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এরপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দাম, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং ‘অবৈধ সংসদ বাতিলের’ দাবিতে গত ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার কালো পতাকা মিছিল হবে সব জেলা সদরে এবং ২৭ জানুয়ারি শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সব মহানগরে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত