নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রমজান মাস উপলক্ষে পাইকারি দরে মালামাল সরবরাহ করার কথা বলে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা নিয়ে মালেক নামে এক ব্যক্তি লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে মালেকের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মো. হারুন অর রশিদ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগটি করলেও বিষয়টি গতকাল জানাজানি হয়। অভিযুক্ত মালেক (৩৮) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নিমাইকাশারী এলাকার আবদুর রউফের ছেলে।
প্রতারিত ব্যবসায়ীরা হলেন একই এলাকার মো. হারুন আর রশিদ (৫৫), মহিদুল ইসলাম মাসুদ (৩৫), মো. সেলিম মিয়া (৪৫) ও মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্যবসার সুবাদে মালেকের সঙ্গে ওই চার মুদি দোকানদারের পরিচয় হয়। মালেক তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় পাইকারি দরে মালামাল সরবরাহ করে আসছিল। আসছে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে পাইকারি দরে আটা, ময়দা, চিনি ও ডাল সরবরাহ করার কথা বলে গত ১১ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, সেলিম মিয়ার কাছ থেকে ৭০ লাখ, মহিদুল ইসলাম মাসুদের কাছ থেকে ৭২ লাখ, আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকাসহ ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা নেয় মালেক। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মালামাল সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু মালেক মালামাল সরবরাহ না করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগকারী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘২২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে কোনোভাবেই মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করি।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ইয়াউর রহমান বলেন, ‘মালেক শুধু এই কয়জন নয়, আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ হয়েছে। তদন্তের পর মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’