স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সাভারে দুটি নিবন্ধনবিহীন প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময় বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সনদ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় হাসপাতাল দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সিলগালা করে দেওয়া দুটি প্রতিষ্ঠান হলো, সাভারের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আদনান হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হেমায়েতপুর এলাকার রহমান স্পেশালাইজড হাসপাতাল। তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন ছাড়াই স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছিল। তাদের ফার্মেসি এবং টেকনিশিয়ানদেরও কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক গতকাল দুপুরে আমরা সাভারে তিনটি হাসপাতালে তদন্ত ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সনদ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাভারে স্বাস্থ্যসেবায় আমরা জিরো টলারেন্স।
একটিও নিবন্ধনবিহীন অবৈধ হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাভারে থাকবে না। হাসপাতালের পাশাপাশি ফার্মেসি, চিকিৎসক এবং টেকনিশিয়ানদেরও বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। এ সময় তিনি সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবৈধ হাসপাতালে সেবা না দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রত্যাশা হেলথ কেয়ার লি. নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০টি নির্দেশনা দৃশ্যমান স্থানে টানানো না থাকায় একদিনের সময় দিয়ে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মো. সাইদুর রহমান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
