মুশফিকের জবাব, 'বুড়োদের দল বরিশালই কিন্তু ফাইনালে'

আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০২ এএম

গত কিছুদিনে সাকিব ও তামিমের সমর্থকদের রেষারেষি ভিন্ন এক মাত্রা পেয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু হয়ে তা বয়ে এসেছে ক্রিকেট মাঠেও। গ্যালারি থেকে কখনও সাকিবকে শুনতে হয় 'ভুয়া, ভুয়া' স্লোগান। আবার কখনও মাঠে দুয়োধ্বনি পান তামিম।  

এমন অবস্হায় বুধবার রংপুর রাইডার্স ও ফরচুন বরিশালের মধ্যকার বিপিএল কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি দুই দল ছাপিয়ে হয়ে উঠেছিল সাকিব বনাম তামিমের লড়াই। যেখানে শেষ পর্যন্ত জিতেছে তামিমের দল। মুশফিক রহিমের ৪৭ রানের অপরাজিত ইনিংস ভর করে ৯ বল বাকি থাকতেই ১৫০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে বরিশাল উঠে গেছে ফাইনালে। মুশফিকের হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। 

সংবাদ সম্মেলনে অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান বলেছেন, সবার আগ্রহ সাকিব-তামিমে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বাকিদের কাজ সহজ হয়ে গিয়েছিল।

'সত্যি কথা বলতে, এরকম বড় একটা ম্যাচে যদি এরকম একজন লাইমলাইট নিয়ে থাকে, তাহলে সবচেয়ে রিল্যাক্স থাকা যায়। দুইজন দুজনের যুদ্ধ করবে আর আমরা আমাদের খেলাটা খেলব, ইজি… (হাসি)।' এরপর তিনি বলেন, 'দুজনই আমি দেখেছি, অনেক রিল্যাক্সড ছিল, দুজনই ছিল নিজের মতো এবং ওরা দুজনই জানে, নিজ নিজ দলের জন্য ওরা কত বড় অবদান রাখতে পারে। আমি মনে করি, তাদেরকে বলার কিছু নেই। দুজনই দুই দিক থেকে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার।'

সাকিব ও তামিমকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুশফিক, 'তাদের দুজনকে নিয়ে লড়াই দূরের কথা, আমি মনে করি, তাদের নিয়ে কথা বলাই অনৈতিক ব্যাপার। তারা যতটুকু বাংলাদেশকে দিয়েছে সেটার সমকক্ষ কিছু নেই। বলেন, 'সাকিব আর তামিম যদি ‘ভুয়া ভুয়া’ শোনে, তাহলে তো আমাদের মাটির ভেতরে ঢুকে যাওয়া উচিত।'

এদিকে, তামিম ইকবালের অধিনায়কত্বে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে এখন বিপিএলের শিরোপা থেকে একটি জয় দূরে বরিশাল।

রংপুরের বিপক্ষে জয়ের পর সমালোচকদের দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুশফিক, ‘কেন ভাই, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তো বললেন যে বরিশাল সবচেয়ে বুড়োদের দল। এক্সপেরিয়েন্সদের টি-টোয়েন্টিতে খেলা হয় না। তো, হেয়ার উই আর।’

হাসতে হাসতে বলা কথাটার লম্বা ব্যাখ্যাও দিলেন মুশফিক, ‘আমার কাছে মনে হয় এই ধারণাই ভুল। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্য, সব সময় একটা মিশ্রণ থাকে যেকোনো ফরম্যাটে। টি-টোয়েন্টি বলেন, ওয়ানডে বলেন, টেস্ট বলেন। আর এটাই হচ্ছে দুনিয়ার একটা নিয়ম। নতুনরা আসবে, পুরোনোরা চলে যাবে এবং তাদের সংমিশ্রণে ওই জিনিসটা তৈরি হয়ে যাবে।'

তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসানের (তামিম) উদাহরণ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘কয়েক দিন পরে হৃদয়, তামিম এরাও সিনিয়র হবে। তারাও ধীরে ধীরে...এই জিনিসটা হচ্ছে একটা স্মুথ...। যেটা কিনা আমার কাছে সব সময় একটা বাস্তবতা, যেটা আমি বললাম—নিয়তি; এভাবেই হবে। এটাকে বারবার বলা হয় যখন, এই জিনিসটা ভেরি ভেরি রং। সিনিয়র বলেন, জুনিয়র বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমরা সবাই বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেট খেলি, অন্য কোনো দেশের জন্য খেলি না।’

৪১ বছর বয়সী ইংল্যান্ডের পেসার জিমি অ্যান্ডারসনের উদাহরণও টেনেছেন মুশফিক, ‘না হলে অ্যান্ডারসনের মতো প্লেয়ার খুব রেয়ার থাকত। কিন্তু এখনো হি ইজ ডুয়িং হোয়াট হি ডাজ বেস্ট। তো আমার কাছে মনে হয় বুড়ো কথাটা ভেরি রং। আমি পার্সোনালি কাউকে প্রমাণ করার জন্য খেলি না। আমাকে যে নেয়, আমাকে যে টিম নিয়েছে, স্পেশালি তামিম ও বরিশালের মালিকপক্ষ, তাদের ওই আস্থাটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তারা যে চিন্তা করে নিয়েছে, সেটা যেন আমি আমার পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করতে পারি। প্রমাণের কিছু না, আস্থার প্রতিদানটা যাতে আমি দিতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত