৪৭ বিদেশি ডাক্তার থেকে ফি আদায় নিয়ে সমালোচনা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪৪ এএম

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা তাফিদা রকিব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশে আসা ৪৭ বিদেশি চিকিৎসককে জরিমানা করার তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। সংস্থাটি বলেছে, তাদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয়েছে।

সমালোচনার মুখে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী বেসরকারি উদ্যোগে কোনো বিদেশি চিকিৎসক দেশে এলে বিএমডিসির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি জমা দিয়ে অস্থায়ীভাবে নিবন্ধন নিতে হয়। এসব চিকিৎসক সেই ফি জমা দিয়ে নিবন্ধন নিয়েছেন।

গতকাল সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এক বিবৃতিতে এই বিদেশি চিকিৎসকদের জরিমানা করা হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৫০ বিদেশি চিকিৎসকের একটি টিমকে তাফিদা রকিব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে। তারা বিনাপয়সার উন্নত চিকিৎসা শেখাবেন এবং গরিবদের বিনাপয়সায় চিকিৎসা দেবেন। ইউরোপের তাফিদা রকিব ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশের প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশন ও আরটিএম বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত চিকিৎসাসেবাবিষয়ক যে কো-অপারেশনের ব্যবস্থা করল, বিএমডিসি তাদের উৎসাহ না দিয়ে বরং জরিমানা করল। বিষয়টি অস্বাভাবিক। তিনি বলেছেন, ‘নলেজড বেসড স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিএমডিসি প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ক্ষোভ-সংবলিত বিবৃতি বিএমডিসির নজরে পড়েছে। এ ব্যাপারে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, ‘গণমাধ্যমে জরিমানার কথা এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভসহকারে বিবৃতি দিয়েছেন। তার কাছে সম্ভবত সঠিক তথ্য পৌঁছানো হয়নি। পরে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খানকে আমি টেলিফোনে প্রচ-ভাবে প্রতিবাদ করেছি। আপনারা বিদেশি চিকিৎসক আনলেন। সেটার জন্য প্রচ- সহযোগিতা করলাম। অনুমতি দিলাম। প্রকারান্তরে দেখা গেল বিএমডিসির বিরুদ্ধে নিউজ হলো। এটা ঠিক না।’

এই বিদেশি চিকিৎসকদের দেশে আনার ব্যাপারে সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি এম এ মুবিন খান বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা এসেছেন আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে। প্র্যাকটিস করতে আসেননি। বিএমডিসি চাইলে ফ্রি করে দিতে পারত। একটি বিমান কোম্পানি তাদের টিকিট ফ্রি করে দিয়েছে। একটি পাঁচ তারকা হোটেল তাদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। তারা কোনো বিজনেস করতে আসেনি। তারা শতভাগ স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এসেছে। এটাকে জেনারেল প্র্যাকটিসের সঙ্গে মেশানোর কোনো সুযোগ নেই। বিএমডিসি সাধারণ যে নিয়মকানুন সেটার কথা বলেছে। এটার কারণে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন জানান, যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনজিও তাফিদা রকিব ফাউন্ডেশন ৪৭ বিদেশি চিকিৎসক এনেছে। বিএমডিসির শর্ত অনুযায়ী তাদের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে এত বড় বিদেশি চিকিৎসক দলের দেশে আসার ঘটনা এটাই প্রথম বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

বিবৃতিতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিয়ম অনুযায়ী কোনো বিদেশি ডাক্তার বাংলাদেশে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। তবে আমাদের বিশেষ অনুরোধে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় তারা এক শর্তে রাজি হন। শর্ত হচ্ছে স্পনসর এজেন্সিকে প্রতি ডাক্তারের বিপরীতে ১৩ হাজার টাকা ও ভ্যাট দিতে হবে।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, তাফিদা হলো একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ৯ বছরের মেয়ের নাম। মেয়েটির বয়স যখন ৪ বছর ছিল, অজানা অসুখের কারণে বহু মাস অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে ছিল। মা-বাবা মেয়েটির হাসপাতাল খরচ বহন করতে না পারায় ব্রিটিশ সরকার তার মেশিন ও ভেন্টিলেটর ডিসকানেন্ট করবে বলে ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সারা ইউরোপে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

আবদুল মোমেন বলেন, তখন ইতালি সরকার শিশুটির দায়িত্ব নেয়। তাফিদা বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো হয়ে উঠেছে। যখন ব্রিটিশ সরকার টাকার কারণে মেয়েটির ভেন্টিলেটর খুলে দিতে চেয়েছিল, তখন বহু লোক মেয়েটির জন্য টাকা তোলে। ওই চ্যারিটির টাকায় তাফিদা রকিব ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশে এই ৫০ জন বিশেষজ্ঞ মেডিকেল ডাক্তারদের আনা-নেওয়া বাবদ প্লেনের টিকিট ভাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনস বিনাপয়সায় দিয়েছে। স্থানীয় হোটেল তাদের থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ ডিসকাউন্ট দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) একমাত্র ব্যতিক্রম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত