স্ত্রীর কণ্ঠস্বরে যোদ্ধার কোমা থেকে ফেরা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ১২:১৪ এএম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন সেরহি। ২৭ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় এই সেনা যুদ্ধে গুরুতর আহত হন। চেতনা হারিয়ে ফেলেন তিনি। হাসপাতালে কোমায় থাকার কারণে সেরহির গলার নিচে টিউব লাগানো হয়। এ কারণে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারেন না তিনি। সাড়া নেই কোনো। কিন্তু প্রতিবারই স্ত্রী ভ্যালেরিয়ার ডাক শুনতে পান তিনি। যতবারই এই ডাক শুনতে পান, ততবার তিনি স্থির হয়ে যান। মূলত স্ত্রীর এই কণ্ঠস্বরই তার চেতনা ফিরে পেতে সহযোগিতা করেছে।

বিবিসির ইউক্রেনকাস্ট পডকাস্টে সেরহি বলেন, স্ত্রীর কণ্ঠই আমাকে লড়াই করতে সহযোগিতা দিয়েছে। ‘আমি শুধু দুঃস্বপ্ন দেখেছি। যে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নগুলো আমি দেখেছি, তাতে আমাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, ধ্বংস করা হচ্ছে, চিবানো হচ্ছে। এরপর চেতনা ফিরে আসে শুধু তার কণ্ঠস্বর শুনে ... কারণ আমি তার কাছে ফিরে আসতে চেয়েছিলাম। তার সঙ্গে থেকেই লড়াই করতে হবে।

বিবিসি বলছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই সেরহিকে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে হয়। তাকে ভ্যালেরিয়ার সঙ্গে কথা না বলেই কয়েক সপ্তাহের জন্য চলে যেতে হয়েছিল। ভ্যালেরিয়া নিজ শহর কিয়েভে থেকে গিয়েছিলেন।

২০২২ সালের নভেম্বরে যখন সেরহির গাড়ি ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন বিস্ফোরণে আহত হন।

বিস্ফোরণে তার মেরুদণ্ড, শ্রোণি, নাক, চোখের সকেট ভেঙে যায়। মাথার খুলি ভেঙে মস্তিষ্কে আঘাত লাগে। তবু প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এরপর থেকে স্ত্রী ভ্যালেরিয়া ছাড়া তিনি আর কিছু মনে করতে পারেন না।

ভ্যালেরিয়া বলেন, তিনি যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দুই পা নিয়ে ফিরে আসবে, এটা আমি প্রত্যাশা করিনি। কিন্তু যখন প্রথম তাকে দেখলাম, তখন তার ক্ষতের ভয়াবহতার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।’

সেরহির স্ত্রী বলেন, তবু আমার স্বস্তি ছিল যে তিনি বেঁচে আছেন। কারণ, যে অবস্থা ছিল, তাতে নিশ্চিত ছিলাম, তার চেতনা আর কখনোই ফিরবে না।

তবে টানা ২০ দিন কোমায় থাকার পর চেতনা ফিরে পান সেরহি। এরপর আরও এক সপ্তাহ তাকে নিবিড় পরিচর্যায় থাকতে হয়। আরও দুই সপ্তাহ ট্রমাটিক ইনজুরি ইউনিটে এবং এরপর কয়েক মাস পুনর্বাসনে থাকতে হয়েছে তাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত