বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহত এক নারী সাংবাদিকের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় তার লাশ হস্তান্তর করা হয়নি। ওই সাংবাদিককে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে চিনতেন সহকর্মীরা। তার ফেসবুক পেজেও এই নাম উল্লেখ আছে। তবে এই নারী সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে আসেন সাবরুল আলম সবুজ নামে এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, নিহত নারী সাংবাদিক তার মেয়ে এবং নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নয়, প্রকৃত নাম বৃষ্টি খাতুন।
এমন পরিস্থিতিতে ওই নারী সাংবাদিকের মরদেহ বাবা পরিচয় দেওয়া সাবরুল আলম সবুজের কাছে গতকাল হস্তান্তর করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আজ শনিবার মরদেহ থেকে এবং সাবরুল আলম সবুজের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। বাবা পরিচয় দেওয়া সবুজের নমুনার সঙ্গে ম্যাচ করলে মরদেহ তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সহকর্মীরা জানান, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করতেন অভিশ্রুতি ওরফে বৃষ্টি। মাসখানেক আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়েছিলেন। এরপর ছোট একটি অস্ত্রোপচার হয় তার শরীরে। তবে কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে অন্য একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে যোগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। চলতি মাসেই সেখানে যোগ দেওয়ার কথা। তবে তা আর হলো না, তার আগেই বেইলি রোডের আগুনে প্রাণ হারালেন এ সংবাদকর্মী।
এদিকে ‘অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর’ মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তার জন্ম-পরিচয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বায়োডাটা অনুযায়ী তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী। বায়োডাটা অনুযায়ী পিতার নাম অভিরূপ শাস্ত্রী এবং মায়ের নাম লিখেছেন অপর্ণা শাস্ত্রী। তিনি ইডেন মহিলা কলেজে দর্শন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ২০১৫ সালে এসএসসি ও ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়।
‘অভিশ্রুতির’ বাবা পরিচয় দেওয়া সাবরুল আলম সবুজ এনআইডি দেখিয়ে বলেন, ‘অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর’ আসল নাম বৃষ্টি খাতুন। তার মায়ের নাম বিউটি বেগম। আর অভিশ্রুতি ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ‘অভিশ্রুতি’ তার মেয়ে। তিন মেয়ের মধ্যে বড় সে। নিজের মেয়েকে নিয়ে কেন মিথ্যা বলবেন?
অভিশ্রুতি সনাতন ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব দে। তিনি বলেন, ওই তরুণীর নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। সনাতন ধর্মের অনুসারী তিনি।
বিপ্লব দে ও ‘অভিশ্রুতি’র সহকর্মীরা দাবি করেন, নিজউ পোর্টাল দ্য রিপোর্ট-এর নির্বাচন কমিশন বিটের প্রতিবেদক ছিলেন ‘অভিশ্রুতি’। এ নামেই সবাই চেনেন তাকে। অন্য একটি অফিসে যে সিভি পাঠিয়েছিলেন, সেখানেও তার নাম উল্লেখ ছিল অভিশ্রুতি শাস্ত্রী।
কী বলছেন সহপাঠীরা: ‘অভিশ্রুতি শাস্ত্রী’র এক সহপাঠী জানান, ইডেন কলেজে তিনি বৃষ্টি বণিক নামে পরিচিত ছিলেন। তাকে সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে জানত। তবে একদিন রুমমেটরা আইডি কার্ড দেখে জানে তার নাম আসলে বৃষ্টি খাতুন। তখন এ নিয়ে তার সঙ্গে কারও কারও ঝামেলা তৈরি হয়। এক রুমমেট তাকে রুম থেকে বের করে দেয়।
শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট কর্র্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তারা এই নারী সাংবাদিকের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
