কোনো সান্তনা বাক্যই শান্ত করতে পারছেন না। স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে হারিয়ে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছেন ছায়েক আহমেদ আশিক। রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্ত্রী নাফিজা আক্তার (৩০) এবং ছেলে ৭ বছরের আরহান ও সাড়ে ৩ বছরের আদিয়াতসহ তিন সদস্যকে হারিয়ে বিলাপ আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি আশ্রয় প্রার্থনা করছেন তিনি। অনবরত হৃদয় বিদীর্ণ করা কান্না আর বিলাপ ছুঁয়ে যাচ্ছে স্বজন ও এলাকার মানুষদের।
সরেজমিনে গতকাল দুপুরে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা কনট্রাক্টর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। এলাকার অগণিত মানুষের ভিড়। এ সময় নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। স্বজনদের কান্নায় সেখানে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আকস্মিক এমন মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসী হতবাক হয়ে যায়। জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মা ও দুই সন্তানদের মরদেহ।
স্বজনরা জানান, বেইলি রোডের খুব কাছেই তাদের বাসা। নাফিজা আক্তার তার বড় ছেলে আরহানের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দুই ছেলেকে নিয়ে বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে রাতে খেতে যান। তার স্বামীর যাওয়ার কথা থাকলেও কোনো এক ব্যস্ততায় তিনি যেতে পারেননি। না গিয়ে তিনি হয়তো বেঁচে গেছেন, কিন্তু স্ত্রী ও আদরের সন্তানদের হারিয়ে এখন বেদনায় মুহ্যমান।
আশিকের শ্বশুর মো. জাকারিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে খেতে গিয়েছিল, ফিরল লাশ হয়ে। ওরা অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যায়নি, আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে।’
নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল বারী আলমগীর বলেন, ‘এলাকার বৌ হিসেবে খুবই ভদ্র, বিনয়ী আর নিরহংকারী ছিল নাফিজা। এলাকার সবাই আজ শোকাহত।’
নাফিজার স্বজন শাহরিয়ার হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে নাফিজা তার দুই শিশুসন্তান ও পরিচিত তিনজনসহ ছয়জন ভবনটিতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর নাফিজা তার স্বামী সায়েক আহমেদ আশিককে ফোন দিয়েছিলেন। ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন, ভবনে আগুন লাগার খবরে হুড়োহুড়িতে ছোট ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। পরে নাফিজাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।’
নাফিজারা থাকতেন রাজধানীর বেইলি রোডেই। আগুন লাগা ভবনটির কাছেই বাসা। স্বজন শাহরিয়ার হাসান আরও বলেন, নাফিজার ছোট ছেলের মরদেহ ভবনটির তিনতলার সিঁড়িতে পাওয়া যায় বলে জেনেছেন। নাজিয়া ও তার বড় ছেলের মরদেহ ভবনের কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানতে পারেননি।
