ভ্রমণ

পর্যটনের গতি-দুর্গতি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪, ০২:১৫ এএম

দেশের এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হতো একটি ট্রাভেল শো। অনুষ্ঠানটির চনমনে উপস্থাপকের সাবলীল উপস্থাপনা, বর্ণনাকারীর বাচনভঙ্গির কারণে সেই অনুষ্ঠানটির কথা আজও মনে পড়ে।

ভ্রমণ, পর্যটন নিয়ে আলাপের শুরুতেই এই অনুষ্ঠানটির কথাটা স্মরণে আসার অবশ্য কারণও আছে। এক সময় ভ্রমণ বলতে মধ্যবিত্তের সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ছিল কক্সবাজার, সিলেটের জাফলং, জৈন্তাপুর আর চা বাগান এবং মহাস্থানগড়, ময়নামতির মতো কাছেপিঠের কয়েকটি প্রত্নস্থান। এসব জায়গায় আবার যাওয়া হতো শিক্ষা সফর, অফিস কিংবা সংগঠনের ‘পিকনিক’ এর নাম করে। ভাড়া করা চেয়ারকোচ বাস, ছাদে মাইক লাগিয়ে হইহল্লা করে সকালে রওনা দিয়ে বিকেলে ফেরাতেই সীমাবদ্ধ ছিল সেসব আয়োজন।

কিন্তু ওই টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি দেখিয়েছিল দেশটা ছোট হলেও এদেশে ভ্রমণ- পর্যটনের অবারিত প্রান্তর কতটা অদেখা রয়ে গেছে। একই দেশে আরও কত রকম সংস্কৃতির মানুষ আছে, তাদের জীবনাচার কেমন। দেশের সাধারণ মানুষের ভ্রমণ ভাবনায় পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা দুর্গম চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে, ঝিরিপথ পেরিয়ে উঠতে শুরু করে কেওক্রাডং চূড়ায়। এমনকি বাদ যায়নি দুর্গম তাজিনডং বা বিজয়ের শীর্ষে আরোহণ।  

এরপর সময় পেরিয়েছে, অগ্রজ অভিযাত্রিকদের অভিযানগুলো অনুজদের টেনেছে। একে একে ভ্রমণ তালিকায় যুক্ত হয়েছে রুমা-থানচির দুর্গম পাহাড়গুলোর স্বর্গীয় সৌন্দর্য, মায়াময় পাড়াগুলো। কক্সবাজারের লাবণী-সুগন্ধা ছাড়িয়ে সমুদ্রবিলাসী পর্যটকরা প্রেমে পড়েছে সেন্ট মার্টিনের, এমনকি ঘোলা জল, প্যাচপেচে কাদার নিঝুম দ্বীপও যুক্ত হয়ে গেছে তালিকায়।

গণমাধ্যম থেকে স্পৃহা নিয়ে দেশীয় পর্যটনের যে নতুন যাত্রা তা আরও নবতর ও বিস্তৃত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অর্থাৎ ফেসবুক-ইউটিউব অথবা ইনস্টাগ্রামের এই সময়ে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে একটু ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে কেউ না কেউ দেশে অথবা বিদেশের কোথাও ঘুরছে। মোবাইল ফোনে তোলা চমৎকার সব ছবি আসছে চোখের সামনে। যা তারুণ্যকে প্রভাবিত করছে, এখন ট্রাভেল-ট্যুরিজম দেশীয় তরুণদের জীবন উপভোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।

ফেসবুকে রয়েছে নানা ট্রাভেল পেইজ, গ্রুপ। এসব পেইজে-গ্রুপে নিয়মিত চলছে ভ্রমণ সংক্রান্ত নানা আলোচনা, খরচ-খরচার শলাপরামর্শ, প্রায় সবগুলো গ্রুপেই দলবেঁধে পর্যটনের আয়োজন করা হচ্ছে নিয়মিত। ফেসবুক-ইউটিউব এখন ভ্রমণপাগল বিপুল সংখ্যক মানুষের কমিউনিটি।

দেশে গত এক যুগে পর্যটনের দিকে সাধারণ মানুষের প্রবল ঝোঁককে পর্যটন বিপ্লব বললে অত্যুক্তি হবে না মনে হয়।

বেড়েছে অভ্যন্তরীণ পর্যটক: ২০২০ সালে যেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি, ২০২৩ সাল অর্থাৎ গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় আড়াই কোটিতে। ইদানীং যেকোনো দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে হাতে ২-৩ দিন পেলেই লোকজন ছুটে যান কক্সবাজারে, মানুষের ঢল নামে সমুদ্র সৈকতে। এছাড়া মেঘের রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাজেক ভ্যালি হয়ে উঠেছে আরেকটি জনপ্রিয় পর্যটনক্ষেত্র। পরিবহন ও থাকার সুবিধার জন্য রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার এই পার্বত্য ইউনিয়নটি শহুরে পর্যটকদের টানছে গত কয়েক বছর ধরে। উঠতি বয়সীদের ফেসবুক কিংবা ইউটিউবের ভিডিওতে পাহাড়-মেঘের প্রেম দেখে বাকিরাও সুযোগ পেলেই ছুটছে সাজেকে। বান্দরবানের রুমায় সড়ক  যোগাযোগ বিস্তৃত হওয়ায় এখন পুরনো জিপের স্থানীয় সংস্করণ ‘চান্দের গাড়ি’ নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় বগা লেকে। দুর্গম থাকার কারণে এতদিন যারা দেশের সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক লেক ও বমদের জীবনধারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়নি তারাও আসছে এখানে।

সুবিস্তৃত সৈকত আর বেলে পাহাড় ছাড়াও দেশের মানুষ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনেও ভ্রমণে যাচ্ছে। গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ চেষ্টায় সুন্দরবন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবার জন্য আগের চেয়ে নিরাপদ হয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মাসেতু এই অঞ্চলে দেশীয় পর্যটকদের জন্য যাত্রাটা আরও সহজ করে দিয়েছে। গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, এই সেতু চালুর পর দেশি পর্যটক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে, দ্বিগুণ হয়েছে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও। সুন্দরবন পর্যটনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন জাহাজও।

সমুদ্র, পাহাড়, বনের মতো দেশের সুবিশাল জলাভূমি হাওরগুলোতেও বেড়েছে পর্যটক সংখ্যা। হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনে গত কয়েক বছরে যে সাড়া পড়ে গেছে তা বোঝা যায় বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে হাওর ঘুরে আসা পর্যটকদের ফেসবুকে পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওতে। কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জের হাওরে এখন পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছোট-বড় নৌকা। এসব নৌকায় রয়েছে বসবাসের প্রায় সব বন্দোবস্ত। তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে হাওর পর্যটনে আনছে গুণগত পরিবর্তন।

তবে পর্যটন খাতে এই জোয়ারের সঙ্গে কিছু জঞ্জালও জমছে। যা সম্ভাবনাময় এই খাতের পথচলাকে স্থবির করে দিতে পারে।

অসচেতন পর্যটকের অপরিণামদর্শী দূষণ : অর্থনীতির হাত ধরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন, রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। এখন অনেকে ‘ঘুরতে’ যাওয়ার জন্য টাকা জমান। পড়ালেখা, কাজ থেকে ফাঁক পেলেই ছুটে যান সমুদ্রে-পাহাড়ে, বনে-হাওরে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে পর্যটকের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্লাস্টিক বর্জ্য। প্লাস্টিকের বোতল, মিনিপ্যাক শ্যাম্পু, চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, ওয়ানটাইম গ্লাসে সয়লাব চিংড়িঝর্ণা। এমনকি দুর্গম নাফাখুম, আমিয়াখুমের স্বর্গীয় সৌন্দর্যের মধ্যে বিশ্রীভাবে উঁকি দিচ্ছে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, বোতল, প্যাকেট এবং অসচেতন পর্যটকের ফেলে আসা আরও নানা রকম প্লাস্টিক অভিশাপ। পাহাড়ের প্রাণশিরা সাঙ্গুতেও ভাসছে প্লাস্টিক। হাওরের পানিতে ভাসছে ওয়ানটাইম গ্লাস-প্লেট, সেন্ট মার্টিনের নীল জলরাশি এবং সাগরতলের প্রবালকে হুমকি দিচ্ছে পর্যটনের প্লাস্টিক বর্জ্য।

শুনতে তেতো লাগলেও বলা উচিত, সব জায়গা সবার জন্য নয়। দেশীয় পর্যটকদের মধ্যে প্রভেদ আছে। কেউ এক দুদিনের জন্য নিয়মিত জীবনের বাইরে গিয়ে চুটিয়ে হইহল্লা, আমোদফুর্তি করতে ভালোবাসেন। আবার কেউ কেউ শহর এবং ব্যক্তিজীবনের বিষাক্ততা থেকে নিরাময় লাভের আশায় ছুটে যান প্রকৃতির কোলে, থাকতে চান নীরবে নিভৃতে। অথচ এখন সবাই সব জায়গায় বাছবিচার ছাড়াই চলে যাচ্ছেন। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পায়ে হাঁটার রাস্তায় প্রকৃতির গানের মধ্যে কর্কশ ব্লুটুথ স্পিকারে ভেসে আসে গান, শান্তিময় জায়গাটিতে যা বেশ বেমানান। কেউ আবার একেবারে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রমের ধারে গিয়ে গানবাজনা, আতশবাজিতেও মেতে উঠছেন!

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সর্বনাশ

পর্যটক বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরিকল্পিত এবং অপরিণামদর্শী উন্নয়নযজ্ঞ, যত্রতত্র কটেজ-রিসোর্ট গড়ার প্রতিযোগিতা চলছে। প্রকৃতি দেখতে ছুটে যাওয়া পর্যটকদের ঘিরে যে অগোছালো স্থাপনা তৈরি হচ্ছে তাতে ঢাকা পড়ছে খোদ প্রকৃতিই! সাজেকের কটেজগুলো এখন আর পাহাড় চূড়ায় হাঁটতে হাঁটতে মেঘ দেখতে দেয় না, মেঘ দেখতে হলে কটেজ ভাড়া নিয়ে তার ভেতরে ঢুকেই দেখতে হবে। একই অবস্থা সেন্ট মার্টিনে। দেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপটিতে অতি পর্যটনের চাপ যে হুমকিতে ফেলছে গোটা দ্বীপের প্রাণ-প্রকৃতিকে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। ভরা মৌসুমে গোটা দ্বীপ যেন বাজার। এজন্য অনেক প্রকৃতিপ্রেমীই অফ-সিজনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও এই দ্বীপের আসল সৌন্দর্য দেখতে যান।

দেশের সম্ভাবনায় আরও কয়েকটি পর্যটনস্থলে আরেক ধরনের সর্বনাশ দেখা যায়। উঁচু-নিচু সবুজ টিলা এবং গারো অধিবাসীদের সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ শেরপুর জেলা। পাশেই জামালপুর, এই দুই জেলার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা আসলে ছোট দেশটির বৈচিত্র্যের আরেক লীলাভূমি। গজনী, মধুটিলার মতো চমৎকার জায়গা আছে এই অঞ্চলে। কিন্তু ইকোপার্ক বা যেকোনো পার্ক বলতে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের কর্তারা কেন যেন সিমেন্টের বাঘ-সিংহ, ডাইনোসর, কার্টুন ছাড়া কিছু বোঝেন না। সতেজ সবুজের মধ্যে স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, পোশাকের আয়োজন রাখা যেতেই পারে। কিন্তু শিশুদের আকর্ষণ করার নামে প্রকৃতির মধ্যে সিমেন্টের হাস্যকর মূর্তি পর্যটন খাত নিয়ে হেলাফেলার মনোভাবকেই সামনে আনে।

গজনী-মধুটিলার মতো প্রায় একই অবস্থা ভাওয়াল গড় থেকে শুরু করে মহামায়া লেকের ধারে। সিমেন্টে বানানো কিম্ভূত সব সৌন্দর্যবর্ধন আসলে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সর্বনাশ তা কর্তারা দ্রুত বুঝলেই ভালো।   

অতি লোভে লক্ষ্যভ্রষ্ট

ন্যূনতম সেবা ছাড়াই কেবল কয়েকটি কক্ষ বানিয়ে নাম দেওয়া হচ্ছে হোটেল-কটেজ, সর্বনিম্ন ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে প্রতিরাতে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। বান্দরবান ভ্রমণে চান্দের গাড়ির বিপুল ভাড়া, সিন্ডিকেটের কবলে পড়াটা নিয়মিত। এরপর বোট ভাড়া, সেখানেও শুরুতেই বড় অঙ্কের টাকা দাবি পরে দরকষাকষি করে কোনোরকমে উঠে বসা, কারণ এতটা পথ পেরিয়ে এসে কেবল নৌকা ভাড়ার জন্য যাত্রা স্থগিত করা যায় না। পাহাড়ে গাইড থেকে শুরু করে চান্দের গাড়ি, থাকা-খাওয়ারও সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। অথচ এখানে ভ্রমণ করতে হলে পর্যটককে উঁচু উঁচু জায়গায় নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সিঁড়ি ভেঙে উঠে দস্তখত, পরিচয়পত্রের কপি জমা দিয়ে এরপর যাত্রা শুরু করতে হয়। কিন্তু অযৌক্তিক খরচের বিষয়টি যেন কেউ দেখেও দেখে না।

পাহাড়ে তবু খরচগুলো এতটা মাত্রাতিরিক্ত লাগে না কারণ পাহাড়ি পাড়াগুলোয় খাবারের দাম এখনো কম। অন্তত অল্প টাকায় ভাত-ভর্তা, মুরগি, সুমিষ্ট পেঁপে খাওয়া যায়। দামের সব মাত্রা ছাড়ায় সমুদ্রে গেলে। হোটেল-কটেজ ভাড়া ছাড়াও কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিনে খাবার খরচ বেশি। সমুদ্রের ধারে সামুদ্রিক মাছ খেতে এত টাকা আর কোথাও গোনা লাগে কি না সেই প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। এমনকি মাছের ভরা মৌসুমেও ছোট আকারের রূপচাঁদা ভেজে খেতে কিংবা কোরাল মাছ বার্বিকিউ করে খেতে পকেট থেকে খসে যায় বড় অঙ্কের টাকা। এছাড়া নিম্নমানের যেসব স্যুভেনির সমুদ্র পর্যটনের জায়গাগুলোতে বিক্রি হয় সে সবেরও চড়া মূল্য। সঙ্গে রয়েছে এসব দোকানির অসৌজন্যমূলক ব্যবহার। কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বলা যায় যে, আমাদের উপকূলীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আচরণে এমন মনে হয় যে, একজন পর্যটককে তারা একবারই বাগে পেয়েছেন, এখন তার কাছ থেকে যতটা আদায় করা যায়। অথচ ভাবনাটা হওয়া উচিত পর্যটকদের এমন সুবিধা ও সৌজন্য দেখানো যাতে তারা বারবার সমুদ্র পাড়ে বেড়াতে আসেন। ট্যুরিজমের সঙ্গে যে হসপিটালিটি বা সেবার সম্পর্ক তা এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপের সামুদ্রিক পর্যটনের স্বার্থে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ী ও কর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।  

নানা জটিলতা, ভোগান্তি এবং বাড়তি খরচের কারণে দেশীয় পর্যটকদের অনেককেই বলতে শোনা যায়, কক্সবাজার বান্দরবানে যে খরচ তা দিয়ে পাশের দেশ ভারতে বেশ শান্তিতে ঘুরে আসা যায়। এই কথাটি দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি পর্যটক ধরে রাখার জন্য সাবধানবাণী। দেশে এখন যে পর্যটনের ইতিবাচক সাড়া মিলছে তা ধরে রাখতে হলে পর্যটনবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তোলার সময় এসেছে। দেশীয় পর্যটকদের জন্য সুলভ ও সেবামূলক মনোভাব সম্পন্ন পর্যটন এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য তাদের উপযোগী বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা এই খাতের ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।

লেখক : সাংবাদিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত