কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্ন সীলগালা ছিল না বলে অভিযোগ শিক্ষক সমিতির। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই প্রশ্ন টাইপিং করেছেন এবং প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। সমিতির নেতাদের দাবি, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে উপাচার্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বোর্ডে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধান উপস্থিত না থাকায় বোর্ডটি স্থগিত করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার জন্য ৩৫ জন প্রার্থীকে ডাকা হয়। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ মখছেদুর রহমান ও ব্যবসায়ী প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। পরে সাড়ে ১২টায় উপাচার্য পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষকদের বাধায় সেটি সম্ভব হয়নি।
দুপুর দেড়টার দিকে ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি’র কারণ উল্লেখ করে ওই বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল হক চৌধুরী।
নিয়োগ পরীক্ষায় না আসার কারণ হিসেবে ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি সমাধান না করেই অধ্যাপক নিয়োগের বোর্ড আয়োজন করা হয়েছে। এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে আমি সেখানে যাইনি।’
তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ মখছেদুর রহমান।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রসেসিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার প্রশ্নের সিকিউরিটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সীলগালা ছাড়াই বিভিন্ন কর্মচারীদের কাছে ১০ মিনিট প্রশ্ন ছিলো। কাজেই এই নিয়োগ সার্কুলার অবৈধ এবং সার্কুলারে অসঙ্গতি রয়েছে। তাই আমরা পরীক্ষা স্থগিতের অনুরোধ করেছি।’
উপাচার্য পছন্দের নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জোর করে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এই শিক্ষক নেতা।
পছন্দের প্রার্থীর বিষয়ে উপচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘যারা অভিযোগ করেছে তাদের কাছে প্রমাণ থাকলে সেটি দেখাক।’
নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় প্রধান ও ডিনের অনুপস্থিতিতে পরীক্ষা চলতে পারে। ডিন ও চেয়ারম্যান ছাড়া বাকি সবাই আমরা ছিলাম। কিন্তু ওনারা কেনো আসেননি আমাদের তা জানায় নেই। তারা না আসায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’
অধ্যাপকদের পদোন্নতির বিষয়ে করা অভিযোগের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, ‘এর সঙ্গে এই পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।’
