ফোন কেড়ে নিল বখাটেরা, শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি কোপাল

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) শিক্ষার্থীর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী আহত হয়। এদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (০৮ মার্চ) দিবাগত রাত ৯টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় নিরিবিলি মেসের সামনে প্রথম দফায় ও রাত ১০টার দিকে বনপাড়া পৌর কবরস্থানের সামনে দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় একদল বখাটে এ হামলা চালায়।

বখাটেদের হামলায় আহতরা হলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইউনুছ আলী, একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের জিলানী, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজুর রহমান ফাহিম, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনির আহাম্মেদ, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহাগ গায়েন, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এ এইচ রিয়াদ ও গুলজার ই মোস্তফা।

এরা সবাই কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে মো. ইউনুছ আলী, আব্দুল কাদের জিলানী, ফায়জুর রহমান ফাহিম জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং আব্দুল্লাহ আল নোমান ও মনির আহাম্মেদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জামালপুর পৌর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকার নিরিবিলি মেসে থাকেন। তাদের মধ্যে চারজন শিক্ষার্থী রাতে চা পান করতে বের হয়। এসময় স্থানীয় কিছু বখাটে তাদের থামিয়ে বাড়ি কোথায় তা জিজ্ঞাসা করেন। একপর্যায়ে ওই বখাটেরা শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করেন এবং এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে তাদের ওপর আক্রমণ করে। আক্রমণের সময় আরও কয়েকজন বখাটে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়।

এদিকে জামালপুর শহরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে চলে আসে। পরে রাত ১০টার দিকে বখাটেদের কাছে থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ফোন উদ্ধারের জন্য বনপাড়া পৌর কবরস্থানের সামনে যায়। এসময় বখাটেরা সংঘবদ্ধ হয়ে ছুরি, লাঠি ও ইট দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ফের হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহত শিক্ষার্থী ফায়জুর রহমান ফাহিম বলেন, আমি আমার বন্ধু ও দুই বড় ভাইয়ের সাথে রাতে চা খেতে বের হই। আমাদের মেসের সামনেই থাকা কিছু বখাটে আমাদের পথ আটকায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাতাল অবস্থায় ছিল। তারা আমাদের বকাঝকা ও ধাক্কা দেওয়া শুরু করে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিলে আমাদের ওপর আরও চড়াও হয় তারা। একপর্যায়ে আমার ফোন কেড়ে নেয়। এসময় রিকশায় করে এসে আরও তিন বখাটে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরকম চলতে থাকা অবস্থায় আশপাশের মানুষ জমে যায় এবং আমাদের মেসের মালিকও নিচে চলে আসেন। মালিকের সঙ্গেও বখাটেদের কথাকাটাকাটি চলতে থাকে। তখন আমরা মেসের গেটের মধ্যে চলে গেলে গেটের মধ্যে থেকে সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের সামিউল ভাইকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে মারতে শুরু করে। রিকশাওয়ালা এসে ঠেকালে তাকেও মারধর শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেকেই আমাদের এখানে আসে। ততক্ষণে বখাটেরা চলে যায়। পরে রাত ১০টার দিকে আমরা তাদের কাছে থাকা ফোন ফিরিয়ে আনতে ও কথা বলতে যাই। তারা অতর্কিত ছুরি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা জানতাম না যে তারা ছুরি, লাঠি নিয়ে বসে আছে। আমরা সবাই খালি হাতে ছিলাম। তারা অতর্কিত হামলা করে কাপড় কাটার কেঁচি দিয়ে আমার হাতে, কারো পিঠে আবার কারো পায়ে কুপিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ লাঠি ও ইট দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের আমরা আগে চিকিৎসা দিচ্ছি। এঘটনায় হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি, শনাক্ত করে থানায় মামলা করব।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত কবীর বলেন, এঘটনার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এখন কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত