রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বুধবার (৪মার্চ) সকালে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে সচেতন রাজশাহীবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক। রামেবি প্রশাসনকে জড়িয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেন উপাচার্য ।
এদিকে রাজশাহীবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তারা দাবি করেন, রাজশাহী নগরের সিলিন্দা এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে পরিচালক ও হিসাবরক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত উপাচার্যের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। মানববন্ধন থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে অপসারণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাজশাহী জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগরের সম্পাদকম-লীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মিন্টু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি নূরে ইসলাম মিলন প্রমুখ।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) প্রশাসনকে জড়িয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক। বুধবার সকালে রামেবির কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় উপাচার্য জানান, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান জেনিথ কর্পোরেশন ও তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশই নেয়নি। তাই তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ‘হাস্যকর ও সাজানো’। উপাচার্য দাবি করেন, জেনিথ কর্পোরেশনের মালিক আতাউর রহমান টিপু টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় উপাচার্য বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। হুমকির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীতিগত অবস্থান বজায় রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম করেন নি বলেও দাবি করেছেন উপাচার্য।
