নারী সাফে সফল দুটি দল ভারত ও বাংলাদেশ। সাফের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টেও সফল বাংলাদেশ ও ভারত। এর আগে ২০১৭ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ এর ফাইনালে বাংলাদেশ হারায় ভারতকে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ জেতে ২০২১ সালে। সবশেষ গত মাসে ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ এর ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। সেই ফাইনালটি টাইব্রেকারে গড়ায়, পরে রেফারির ভুলের কারণে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় দুদলকে। আজ আবার আরেকটি বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল। সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের এই ফাইনালে যেই জিতুক যুক্ত হবে বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়ের আরেকটি অধ্যায়।
প্রতিযোগিতার রাউন্ড রবিন লিগে ভারতের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা বাংলাদেশের। এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ একমাত্র অপরাজিত দল। প্রথম পর্বে ভারত তিন ম্যাচে জিতেছে দুটি, হার একটি। সেটি বাংলাদেশের বিপক্ষেই। তবে তিন ম্যাচে মোট ১৮ গোল করে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম গোল (১টি) হজম করেছে। বাংলাদেশের কোচ টিটু বলেন, ‘ফাইনাল সবসময়ই ফাইনাল। ভারত খুবই ভালো দল। তিন ম্যাচে তারা ১৮ গোল করেছে। তাদের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী, গোলগুলো সেটা ইঙ্গিত করে। আমাদের খেলোয়াড়দের কথাও বলতে হয়, তারাও সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমার মতে সেরা দুই দলই ফাইনালে উঠেছে।’
অপরাজিত বলে নিজেদের ফেভারিট ভাবছেন না টিটু। ‘ফাইনালে যেকোনো কিছুই হতে পারে। একে অন্যের দুর্বলতা কাজে লাগাতে হবে। এভাবেই একটা ফাইনাল খেলা হয়। আমরা উপভোগ্য একটা ফাইনালের অপেক্ষায় আছি। মেয়েরা শিরোপার জন্য কঠিন পরিশ্রম করেছে।’
বাংলাদেশের সামর্থ্য আছে ভারতকে হারানোর। আগের মুখোমুখিতে সেটি প্রমাণও করেছে টিটুর শিষ্যরা। তবু সতর্ক থাকছেন বাংলাদেশের কোচ। ‘যে বয়সের বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করি, তাদের জন্য কৌশল ব্যবহার করাটা এত সহজ না। ওরা চায় সব ম্যাচে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখাতে। এত গোল করার ক্ষেত্রে কৌশল বলে তো কিছু নেই, এটা তাদের নিজেদের কোয়ালিটি। ফাইনালে স্নায়ুচাপের একটা ব্যাপার থাকে। খেলোয়াড়দের এটা মানিয়ে নিতে হবে। যারা কম ভুল করবে, তাদেরই এই ম্যাচে জেতার সুযোগ থাকবে।’
ভারতের কোচ মুত্তাহ বলেন, ‘আগামীকাল (রবিবার) নতুন একটা দিন। গ্রুপ পর্বে যা হয়েছে, ভুলে গেছি। আমাদের কিছু ভুল ছিল, তবে আমরা বিশ্বাস করি আমাদের খেলা ভালো ছিল। এখন আমরা উজ্জীবিত। মেয়েরা ফাইনাল খেলতে মুখিয়ে আছে।’
আজ ফাইনালে আলাদাভাবে নজর থাকবে প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের সুরভি আকন্দ প্রীতির দিকে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন একটি গোল। নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে করেন দুটি করে। ভারতের হয়ে চারটি করে গোল আছে আনুষ্কা কুমারি ও ফার্নান্দেজের।
