ইসরায়েল আর হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসে জেরুজালেমে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল আকসায় এই মাসে যাতায়াত ও পরিদর্শনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস। তবে ইসরায়েলের দাবি, হামাস রমজান মাসে এই অঞ্চলটি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। যা কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে। এ ছাড়া জায়গাটিকে ইহুদিরাও তাদের পবিত্রতম স্থান বলে মনে করে। কখনো কখনো এই জায়গাটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘর্ষের ফ্লাশ পয়েন্ট হয়েও দাঁড়ায়। ফলে গাজার চলমান সংঘাতের মধ্যে সেখানে মুসলমানদের যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ আরও ছড়াতে পারে।
বিবিসি বলছে, রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামী ১১ বা ১২ মার্চ জেরুজালেমে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। এই সপ্তাহে আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের সময় সেখানকার পরিবেশ শান্ত দেখা গেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের মনে চিন্তা ছিল যুদ্ধ নিয়ে। আয়াত নামে একজন নারী বিবিসিকে বলেন, লোকেরা নিয়মিত রমজানের ঐতিহ্য উদযাপন এবং উপভোগ করতে পছন্দ করে। কিন্তু এ বছর তার আর কিছুই হবে না। রোজার শুরুতে ৪০ দিনের একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। যদিও মিসরের একটি সূত্র বলছে, ইসরায়েলের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা হামাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রোজার আগেই দেখা করবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, হামাস তার অবস্থানে অটল রয়েছে। তারা আসলে কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয়।
এদিকে আল আকসা মসজিদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রেখেছে ইসরায়েলি পুলিশ। মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রতিটি গেটে কন্ট্রোল অ্যাক্সেস চালু করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল এই অংশসহ পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। তাই এই স্থানটি ফিলিস্তিনিদের কাছে সংগ্রামের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখানে প্রায়ই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই হয় রমজান মাসেই। বিবিসি বলছে, এ বছর রোজার মাস কীভাবে কাটবে তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের ওপর। কারণ তারা কী ধরনের উদ্যোগ বা কৌশল নেবে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য বলেছেন, রমজানের প্রথম সপ্তাহে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তারা প্রতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবে।
গাজা যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জেরুজালেমে প্রবেশে অনেকাংশেই বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে পবিত্র এই রমজান মাসে জুমার নামাজ পড়তে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় যেতে হবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চেকপোস্টের মধ্যে দিয়ে।
ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র আইলন লেভি জোর দিয়ে বলেছেন, ধর্মীয় প্রার্থনার স্বাধীনতার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বিবিসি বলেন, রমজানে প্রায়ই এমন একটি উপলক্ষ তৈরি হয় যখন উগ্রপন্থিদের কারণে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এবার আমরা তা প্রতিরোধের জন্য কাজ করছি।
তবে ইসলামী ওয়াকফ কাউন্সিলের সদস্য ও আল আকসা বা হারাম আল শরীফের পরিচালক ড. ইমাম মুস্তফা আবু সোয়ে’র বলেন, কয়েক বছর থেকেই পশ্চিম তীর থেকে যারা আল আকসায় আসছে তাদের অনুমতি দিচ্ছে ইসরায়েল। কিন্তু এতে কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতা হয়নি। তবে এবার রমজানে সারা বিশ্ব আরও গভীরভাবে খেয়াল করবে জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদ ঘিরে কিছু ঘটছে কি না।
