জার্মানিতে ডিজিটাল ডেবিট কার্ড বিতর্ক

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৪, ১১:৩৫ পিএম

জার্মান রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধা আশ্রয়প্রার্থীরা যেন জার্মানির বাইরে পাঠাতে না পারেন সে জন্য তাদের ডিজিটাল ডেবিট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল ডেবিট কার্ড চালু সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার বলছে, সংসদে পাস হলে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, এমন কার্ড চালুর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বলছে, বর্তমানে একজন আশ্রয়প্রার্থী প্রতি মাসে ক্যাশ বা ভাউচার হিসেবে ৪০০ থেকে ৫০০ ইউরো পেয়ে থাকেন। ভবিষ্যতে এই অর্থ ডেবিট কার্ডে ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আশ্রয়প্রার্থীরা সেই কার্ড দিয়ে সাধারণ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা যায়, এমন দোকানগুলোতে কেনাকাটা করতে পারবেন। তবে এই কার্ড দিয়ে অনলাইন পেমেন্ট করা যাবে না।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, জার্মানির ১৬টি রাজ্য এ ধরনের কার্ড ব্যবস্থা চালু করতে সম্মত হয়েছে। তবে কোনো রাজ্য কর্র্তৃপক্ষ চাইলে তাদের মতো করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। ১৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে এমন কার্ড চালুর আনুষ্ঠানিক যে কারণ বলা হয়েছে সেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা নিজ দেশে পাঠানোর সম্ভাবনা বন্ধ করা এবং এভাবে মানবপাচার সংশ্লিষ্ট অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আশ্রয়প্রার্থীরা যেন অর্থসহায়তা নিজ দেশে পাঠাতে না পারেন সেটি নজরে রাখতে বর্তমানে রাজ্য কর্র্তৃপক্ষকে অনেক চাপ নিতে হচ্ছে। সেটি কমানোও এমন কার্ড চালুর একটি উদ্দেশ্য বলে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে উল্লেখ করা হয় বলে ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

পাইলট প্রকল্প হিসেবে কিছু জায়গায় কয়েক মাস আশ্রয়প্রার্থীদের এমন কার্ড দেওয়া হয়েছিল। এতে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষের প্রশাসনিক চাপ কমেছে। প্রতি মাসের শুরুতে একসঙ্গে এত অর্থ পাওয়াজনিত নিরাপত্তা উদ্বেগ কমেছে। এ ছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী পরিবার জানিয়েছে, তাদের মাসিক বাজেট ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়েছে।

তবে রাজনীতিবিদরা আশা করছেন, এমন কার্ড চালু হলে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত হবে। ফলে ভোটারদের ডানপন্থিদের দিকে ঝোঁকা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। সোসাইটি ফর ফ্রিডম রাইটসের আইনি বিশেষজ্ঞ লেনা ফ্রেরিশ ডিডব্লিউকে জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, আশ্রয়প্রার্থীরা তখনই দেশে টাকা পাঠান যখন তারা নিজেরা কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আমার মনে হচ্ছে, এমন কার্ড চালুর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত