প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, প্রবীণ সাংবাদিক ইহসানুল করিম হেলাল (৭৩) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রবিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ইহসানুল করিম ২০১৫ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ছিলেন।
ইহসানুল করিম হেলালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ইহসানুল করিমের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষ কর্মকর্তাকে হারাল। রাষ্ট্রপতি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তায় বলেছেন, প্রেস সচিব হিসেবে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম হারাল একজন প্রিয় সহকর্মীকে আর আমি হারালাম একজন বিশ^স্ত কর্মকর্তাকে।
ইহসানুল করিমের জন্ম কুষ্টিয়া জেলায়, ১৯৫১ সালের ৫ জানুয়ারি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করেন, পরে সাংবাদিকতায় পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (বিএলএফ) সদস্য হিসেবে পশ্চিম রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে ১৯৭২ সালে ইহসানুল করিমের কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে পাঁচ বছর তিনি নয়া দিল্লিতে বাসসের ব্যুরোপ্রধান ছিলেন। বিবিসি, পিটিআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বাংলাদেশ প্রতিবেদক হিসেবেও কাজ করেছেন, সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘হেলাল ভাই’ হিসেবে।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান ইহসানুল করিম। ওই বছরই তাকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। এরপর কয়েক দফা তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
