বেসরকারি চাকরিজীবী রাফি আহমেদ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এসেছিলেন মিরপুরের-১১ নম্বর বাজারে। ইফতারের জিনিসপত্র কিনতে। শরবতের জন্য ইসবগুলের ভুসি কিনতে গিয়ে দাম শুনে অবাক হন রাফি। কেজিতে বেড়েছে ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। ভালোটা নিলে গুনতে হবে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা।
রাফি বলেন, ‘দুই মাস আগেই কিনেছি হাজার বা ৯০০ টাকা কেজিতে। এখন কিনতে এসে অবাক হলাম। ১৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ইসবগুলের ভুসি। মানুষ কি খাবে ভাই?’
রমজান এলে চাহিদা বাড়ে ইসবগুল ভুসির। ইফতারে এই শরবত খেতে পছন্দ করেন রোজাদাররা। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়েও এটি অনেক উপকারী। তবে এবার রোজার আগেই দাম বেড়েছে এই পণ্যটির। রাজধানীর বাজারগুলোতে ইসবগুলের ভুসির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা অজুহাত দিচ্ছেন—আমদানি খরচ ও ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি, ডলারের সংকট।
গতকাল সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরান ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারসহ মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের কয়েকটি বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিকেজি ইসবগুলের ভুসি মানভেদে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৬ মাস আগে ছিল ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ইসবগুলের ভুসি ১৮০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৬ মাস আগে ছিল ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
এদিকে প্যাকেটজাত ইসবগুলের ভুসি আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন পুরান ঢাকার ছোট-বড় দোকানগুলোতে দেখা যায়—সজিব গ্রুপের ২০ গ্রাম ইসবগুলের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। সেই হিসাবে এক কেজি ভুসির দাম পড়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা।
এক নম্বর খোলা ইসবগুলের ভুসি ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা। একটু কম মানসম্পন্ন প্রতি কেজি ভুসি ১৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান কলতাবাজারের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মিরপুর-১১ নম্বর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা কেজিতে। প্রায় একই চিত্র মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, আমরা তো পাইকারি বাজার থেকে কিনে আনি। দাম বাড়ার কারণ জানি না। যতদূর শুনেছি, সরকার নাকি ভ্যাট বাড়িয়েছে। এ জন্য দাম বেশি।
ক্রেতারা বলছেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো এখন নিত্য ব্যাপার হয়ে গেছে। বিক্রেতারা রমজানের দুই-তিন মাস আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
মিরপুরে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘শুধু ইসবগুলের ভুসিই না, বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি। কিন্তু সরকার কিছু করতে পারছে না।’
