ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে চীন তার তিব্বত ভূখ-ের দক্ষিণাংশ তথা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ মনে করে। ব্রিটিশ শাসকরা উপমহাদেশ ত্যাগের পর থেকে রাজ্যটি ভারতভুক্ত। তবে চীন সব সময় এর ওপর নিজের সার্বভৌম অধিকারের কথা তুলে এসেছে যা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অরুণাচল সফর সেই বিতর্ককে আবারও সামনে আনল। বেইজিং অরুণাচলে মোদির সফরের বিরোধিতা করলেও নয়াদিল্লি বলছে, রাজ্যটি ভারতের ফেডারেল কাঠামোর ‘অবিচ্ছেদ্য’ অংশ।
উত্তর-পুর্ব ভারতের রাজ্য অরুণাচলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন গত সোমবার জানান, এই অঞ্চলে মোদির সফরের প্রতিবাদে কূটনীতিক সূত্রে ভারতের কাছে চীন প্রতিবাদ জানাবে। মোদির এই সফর সীমান্ত সমস্যাকে আরও জটিল করবে।
গতকাল মঙ্গলবার ভরতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল সব সময়ই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ছিল।
গত শনিবার নরেন্দ্র মোদি অরুণাচল সফরে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে সেলা গিরিফথের দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ পথ। সব আবহাওয়ায় ভারতীয় সেনাদের যাতায়াতের পথ তৈরি করতে এই সুড়ঙ্গ নির্মিত হয়।
অরুণাচলে কোনো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কার সফরকেই ইতিবাচকভাবে নেয় না চীন। সর্বশেষ ঘটনা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতের নেতারা সময়ে সময়ে অরুণাচল সফরে যান, যেভাবে তারা অন্য রাজ্যেও যান। ভারতের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিরোধিতার কোনো কারণ থাকতে পারে না। এ ছাড়া এই ধরনের কথাবার্তা অরুণাচলকেন্দ্রিক বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না; যেখানে অরুণাচল সব সময় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।’
পরমাণু শক্তি ধর ভারত ও চীন পরস্পরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার সীমানা ভাগাভাগি করে। দুই দেশের মধ্যে অঙ্কিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর অনেক জায়গায় সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ১৯৬২ সালে অরুণাচলকে কেন্দ্র করে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ হয়। এলএসি বরাবর লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ২০২০ সালে দুই দেশের সেনাদের সংঘাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। চীনা সেনারা নিহত হলেও এ সংক্রান্ত তথ্য বেইজিং দেয়নি।
