বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) স্থায়ী শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরেও দুই ডজন বিভাগে নেই কোনো অধ্যাপক। ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ২১০ জন শিক্ষক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকস্বল্পতাও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তবে সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এতে শিক্ষকসংকট অনেকটাই দূর হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র দুজন অধ্যাপকের খালি পদে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে ছাড়কৃত অর্গানোগ্রামভুক্ত অধ্যাপক পদ রয়েছে ৪৮টি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার দপ্তর জানায়, পদ খালি থাকা সাপেক্ষে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা ২১০ জন। এর মধ্যে ৪৫ জন শিক্ষা ছুটিতে থাকায় ১৬৫ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে ২৫ বিভাগে পাঠদান। তাছাড়া ছয়জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে আর ফেরত আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্গানোগ্রামভুক্ত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৪৫৩টি। এর মধ্যে ইউজিসি থেকে ছাড়কৃত পদের সংখ্যা ২২৯টি। অর্গানোগ্রামভুক্ত অধ্যাপক পদ ৪৮টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন একজন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য নিজেও একজন অধ্যাপক তবে সেটি অস্থায়ী পদ। একমাত্র স্থায়ী অধ্যাপক হলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন। এর আগে মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাসিনুর রহমান অধ্যাপক হিসেবে থাকলেও দীর্ঘদিন অনুমতিবিহীন ছুটিতে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। সে হিসেবে এখন একজন অধ্যাপক রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরই নতুন নতুন বিভাগ চালু হচ্ছে, আসন সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও, পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে নানামুখী চাহিদা। কিন্তু সেসব চাহিদা পূরণে অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়ন পিছিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নানা সংকটের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছেন তারা। তবে অধ্যাপক না থাকায় শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অধ্যাপকের সান্নিধ্যে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়েছি, বিষয়টি আজীবন আমাদের জন্য আফসোসের হয়ে
থাকবে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সংকট তো অনেক। এর মধ্যে থেকেও শিক্ষার মান যাতে নিশ্চিত করা যায় সে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অধ্যাপক একটি সিনিয়র পদ। আমরা কয়েকবার অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ আসতেই চান না। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক অধ্যাপক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আমরা তাদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’
এ বিষয়ে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক না থাকা একটি সমস্যা।’ নিয়োগ দিয়েও অধ্যাপক পাওয়া যাচ্ছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের এ বিষয়ে জানানো হয় তাহলে বিষয়টি আমরা দেখব। প্রয়োজনে আমরা নিয়মানুযায়ী ইনসেনটিভের ব্যবস্থা করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘ধাপে ধাপে আমরা আরও নিয়োগ দেব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও কমপক্ষে ৫০ জন অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হবে।’
