বরিশালের হিজলায় উপজেলায় সয়াবিন ক্ষেত থেকে এক আওয়ামী লীগের নেতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামাল মাঝি নামের ওই আওয়ামী লীগ নেতার মরদের উদ্ধার করা হয়।
জামাল মাঝি উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) পংকজ দেব নাথ।
নিহতের স্ত্রী আঁখি বেগম জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে সর্বশেষ কথা হয় জামাল মিয়ার সঙ্গে। রাত ২টার দিকে তাকে ফোন করা হলে জামাল মিয়া জানিয়েছিলেন, নিরাপদে আছেন। সকাল ৯টার দিকে স্বামীর লাশ ক্ষেতে পড়ে আছে বলে খবর পান আঁখি বেগম।
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ঢালীর নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন আঁখি বেগম।
এমপি পংকজ দেবনাথ বলেন, ‘গত ২ মার্চ জামাল মাঝির বাড়িতে হামলা করেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ড. শাম্মী আহমেদ গ্রুপের ইউপি চেয়ারম্যান জামাল ঢালীর নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসীরা। তারা জামাল মাঝিসহ পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। পরে জামাল মাঝির ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় জড়িত সাইফুল ইসলাম নামে এমপি শাম্মীর এক অনুসারীকে শুক্রবার (১৫ মার্চ) পেয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনার পর হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপংকর রায় তার (এমপি পংকজ) অনুসারীদের এলাকা ছাড়া করেন। এমনকি এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
এদিকে পুলিশের কারণে সবাই এলাকা ছাড়া হলেও জামাল মাঝি একা ছিলেন। সকালে তাকে পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ড. শাম্মী অনুসারীরা বলে অভিযোগ করেন এমপি পংকজ দেবনাথ।
অভিযোগ অস্বীকার করে হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপংকর রায় বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে ধুলখোলা ইউনিয়নে দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই ১৫ দিনে থানা ও আদালতে পাঁচটি মামলা করেছে একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবারের একজনকে মারধরের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি দুইপক্ষ সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। তখন দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই পক্ষকেই নিবৃত্ত করা হয়েছে।’
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর বলেন, ‘পরিত্যক্ত অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা বেরিয়ে আসবে।’
