উজিরপুরে চাঁদা না দেয়ায় মাছের ঘের ও মুরগির খামারে আগুন দেয়ার অভিযোগ 

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

রাতের আধারে মাছের ঘের ও পানির উপরে মুরগির খামারে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে দূর্বৃত্তরা। এ সময় দূর্বৃত্তদের বহনকারী চালকসহ মাইক্রেবাস আটক করে পুলিশে সেপার্দ করেছে জনতা।  এ ঘটনায় দূর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বেশ কয়েকটি মুরগির খামার পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।

রবিবার (১৭ মার্চ)  দাবীকৃত কোটি টাকা চাঁদা না দেয়ায় ভোররাত ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মাছের ঘেরে অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এদিন সকাল ১০ টার দিকে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ও উজিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু মাছের ঘের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া উজিরপুর মডেল থানার পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদারের পশ্চিম সাতলা গ্রামে একটি মাছের ঘের রয়েছে। সেই ঘের নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  মো. শাহিন হাওলাদার ও তার চাচাতো ভাই বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা আসাদ এবং তার সহযোগী ইলিয়াস হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। 

গত কয়েকদিন আগে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জেরে একটি মামলা দায়ের করেন ইদ্রিস হাওলাদার। ওই মামলায় আসামী আসাদ হাওলাদার বরিশাল আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনার আওয়ামী লীগ নেতা ও মাছের ঘেরের মালিক ইদ্রিস হাওলাদার অভিযোগ করেন, আসাদ হাওলাদার জামিনে বের হয়ে তার কাছে মামলার খরচ বাবদ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা না দেওয়ায় আসাদ হাওলাদার, ইলিয়াস, রাসেল হাওলাদার ও তাদের লোকজন নিয়ে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে রবিবার ভোর রাতে  ইদ্রিস হাওলাদারের মাছের ঘেরে হামলা চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা ২টি ড্রেজারসহ মাছের ঘেরের পানি সংস্কার কাজে নিয়োজিত ৭টি সেচ পাম্পে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। এছাড়া মাছের ঘেরের মধ্যে অতিরিক্ত ৬৫ বস্তা খাবার ফেলে দেয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠছে বেশ কয়েকটি খামারের মুরগি পুড়ে মারা গেছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় উজিরপুর মডেল থানার ওসি জাফর আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘের নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাতের আধারে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মামলা দায়ের হলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত