কেউ আইলে মাইরা হালামু, কাইটা হালামু: মাটি খেকোদের হুমকি

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৬:১৮ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাতের আঁধারে ফসল ও সরকারি সড়ক নষ্ট করছে মাটিখেকোরা। প্রতিবাদ করলে হুমকিও দিচ্ছে মাটিখেকোরা। তাদের হুমকিতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছে সংখ্যালঘু পরিবার। এসবের প্রতিবাদ ও আবাদি জমি রক্ষায় বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক-কৃষাণীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বামনাবহ এলাকায় এমন প্রতিবাদ জানানো হয়।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষক-কৃষাণী সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের বামনাবহ এলাকায় কোনো শিল্পকারখানা নেই। একেবারেই প্রত্যন্ত গ্রাম এটি। অন্য কোনো আয়-উপার্জনের পথ না থাকায় কৃষির ওপর নির্ভরশীল এখানকার মানুষ। প্রতি মৌসুমে সরিষা, বোরো ধান, ভুট্টা, পাটসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেই চলে তাদের সংসার। কিন্তু সেখানেও হায়েনার মতো নজর পড়েছে মাটি খেকোদের। মাত্র দুই রাতে ফসল ও শাহবাজপুর-বামনাবহ-দক্ষিণ পাকুল্লা সদ্য মেরামতকৃত সরকারি সড়ক নষ্ট এবং দুর্ঘটনা রক্ষার সাংকেতিক সড়কপিলার ভেঙে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়। পাশের গোসাত্রা এলাকার মাটি খেকু ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা ওই রাস্তা বানিয়ে ফসলি জমির মাটি লুটের চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী কৃষক-কৃষাণীরা নিষেধ করলে উল্টো তাদের গালিগালাজসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান মাটি খেকো ও তার সহযোগীরা। শুধু তাই নয়, প্রশাসন তার পকেটে জানিয়ে মাটি কেটে এখানে সমুদ্র বানানোর হুমকিও দেন মাটি খেকো ওবায়দুর। তাদের হুমকিতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছে কয়েকটি সংখ্যালঘু পরিবার। এসবের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক-কৃষাণী। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রায় ৭৫ জন কৃষক-কৃষাণী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ করেছেন।

এ সময় কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের চলাচলের একমাত্র সরকারি সড়ক নষ্ট ও সড়কপিলার ভেঙে ক্ষমতার দাপটে ফসল ও কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার পাঁয়তারা করেছে মাটি খেকোরা। বাধা দিলে মাটি খেকোরা বলে, কেউ আইলে মাইরা হালামু, কাইটা হালামু।

কৃষাণী সিমা সরকার, অনিতা সরকার ও মনি সরকার বলেন, আমরা হিন্দু-সম্প্রদায়ের লোক বলে যেন আমাদের ওপর বেশি জুলুম করছে। আমাদের ফসল ও কৃষি জমি নষ্ট করে রাস্তা বানিয়েছে মাটি খেকোরা।

মনতাজ উদ্দিন বলেন, এখানে শাকিল মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির জমির মাটি কাটবে। কিন্তু একটা জমির মাটি কাটলে অন্য জমিও ভেঙে পড়বে।

অভিযুক্ত ওবায়দুর রহমান জানান, অভিযোগের পর তখন সাবেক ইউএনও জকি সাহেবের কাছে আমি ও বাদীরা গিয়েছিলাম। ওই ইউএনও জকি সাহেব বলেছিলেন কেনা সম্পত্তিতে মাটি কাটা বন্ধ হবে না। ওই ইউএনও মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছিলেন জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার সাংবাদিকদের বার বার অনুরোধ জানান এই অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার আহম্মেদ জানান, বামনাবহ এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা একটি অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত