দুই মাসে পল্লীবিদ্যুতের ১৪ ট্রান্সফরমার চুরি

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০২:০৬ এএম

ঝালকাঠিতে একের পর এক চুরি হচ্ছে পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার। জেলার রাজাপুর উপজেলায় মার্চ মাসে ৬টিসহ গত দুই মাসে ১৪টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় এসব এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে রয়েছে। আর এসব চুরি সাধারণত সন্ধ্যা রাতে বা লোডশেডিংয়ের সময় হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকাকালীন কিংবা লোডশেডিংয়ের সময় যেহেতু এসব ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে, তাই এর সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মচারীরা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের চাড়াখালী এলাকার ১৫ কেভি ট্রান্সফরমার, একই ইউনিয়নের খায়েরহাটের নিমাওলা এলাকার ১০ কেভি ট্রান্সফরমার, রাজাপুর সদর ইউনিয়নের সত্যনগর এলাকার ৩৭ কেভি ট্রান্সফরমার একই ইউনিয়নের ছোট কৈবর্তখালী এলাকার ৫ কেভি ট্রান্সফরমার, মঠবাড়ি ইউনিয়নের বদনীকাঠী এলাকার ২৫ কেভি ট্রান্সফরমার ও একই ইউনিয়নের বাঘরী বাঁশতলা এলাকার ট্রান্সফরমারসহ এ মাসে পল্লীবিদ্যুতের ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

এছাড়াও গত দুই মাসে উপজেলার বড়ইয়া, পালট, চুনরুরি ও সাতুরিয়া এলাকার আরও ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ট্রান্সফরমার না থাকায় এসব এলাকায় বর্তমানে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ চালু থাকা অবস্থায় সাধারণ চোরদের পক্ষে ট্রান্সফরমারর চুরি করা সম্ভব নয়, এর সঙ্গে পল্লীবিদ্যুতের কর্মচারীদের জোগসাজশ না থাকলে এমন চুরি তারা করতে পারে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, সন্ধ্যার পরে বিদ্যুতের লোডশেডিং দেওয়া হয়। আর এ সময়টিতেই ট্রান্সফরমার চুরি হয়। কিছুদিন পর পর একের পর এক এভাবে ট্রান্সফরমারর চুরির ঘটনা ঘটেই চলছে। কিন্তু প্রতিরোধে বা চুরি ঠেকাতে পল্লীবিদ্যুতের  কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না।

ভুক্তভোগী গ্রাহক লোকমান হোসেন, কাওসার, আল আমিন ও আরিফ হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারটি চুরি যায়। এরপর আমরা বেশ কিছুদিন অন্ধকারে ছিলাম। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তারা আমাদের ট্রান্সফরমার কিনে নিতে বলে। পরে ট্রান্সফরমারের বাজারমূল্যের অর্ধেক ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে নতুন করে ট্রান্সফরমার কিনে স্থাপন করে দেয় পল্লীবিদ্যুৎ।

রাজাপুর পল্লীবিদ্যতের সহকারী ব্যবস্থাপক মধুসূদন রায় বলেন, গত তিন মাসে উপজেলার ১৪টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এরমধ্যে ৪টি ট্রান্সফরমার এখনো নতুনভাবে স্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি হওয়া স্থানে প্রথমবার গ্রাহকদের অর্ধেক টাকা ও দ্বিতীয়বার চুরি হলে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার নিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ করেছেন চুরির ব্যাপারে আমাদের কর্মচারীরা জড়িত। যা সঠিক নয়। তারপরেও আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।’

রাজাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, পল্লীবিদ্যুতের পক্ষ থেকে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে মামলা করার পর মঙ্গলবার রাতে আমরা দুই চোর ও চুরি যাওয়া পল্লীবিদ্যুতের কিছু মালামাল উদ্ধার করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত