জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ঘুরতে আসা চার স্কুলছাত্রকে আটকে রেখে মারধর এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
গতকাল বুধবার (২০ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
মারধর ও ছিনাতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলেন- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান এবং পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান নাজিজ ও এহসানুর রহমান রাফি। অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১ ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে ছিনতাইয়ের শিকার স্কুলছাত্ররা হলেন কৃষ্ণ, উৎপল সরকার, সোহাগ বিশ্বাস ও দুর্জয় সরকার। এদের সবাই সাভারের ফোটনগর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তারা দুটি বাইক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন এসে তাদের পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দেওয়ার পর বহিরাগত জানতে পেরে তাদের অকথ্য গালিগালাজ করে। এরপর আরও তিনজন এসে তাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন খেলার মাঠে ডেকে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। সেখানে তাদের আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তাদের কাছে টাকা না থাকায় বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা এনে দেয়। এ ছাড়া তাদের ১৫ হাজার টাকার একটি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এরপর অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন গেরুয়া এলাকার একটি দোকান থেকে বিকাশের টাকা বের করে চলে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ভুক্তভোগীরা।
তবে ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা বলেন, বহিরাগত কয়েকটি ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাজেভাবে বাইক চালাচ্ছিল। তারা অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে ভিডিও করছিল। এসময় তাদের ডেকে কথা বললে তারা তাদের পরিবারকে না জানানোর অনুরোধ করে এবং টাকা দিতে চায়। পরে একপ্রকার জোর করে টাকা এবং ক্যামেরা দিয়ে চলে যায়। তাদের মারধর করা হয়নি।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা শাখার প্রধান সুদীপ্ত শাহীন বলেন, আমরা ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের মোবাইলে থাকা জিপিএস ট্রাক করি এবং বিকাশের দোকান খুঁজে বের করি। এরপর দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সমর্থ হই। রাত ১০টার দিকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে ভুক্তভোগীদের হারানো জিনিসপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মমদ আলমগীর কবির বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা ঘটনা টাকা ও ক্যামেরা ফেরত দিয়েছে। ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
