সিপিজের বিবৃতি

সাংবাদিক রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ অবিলম্বে তুলে নিন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০২:৪৪ এএম

দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশের কর্র্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

এ ছাড়া লালমনিরহাটে পাঁচ সাংবাদিককে হয়রানির ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত বুধবার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বৈশ্বিক সংগঠন সিপিজে এই আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিটি সংগঠনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শফিউজ্জামান রানা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কয়েকটি প্রকল্পের ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ৫ মার্চ আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকারের কপি দেওয়া নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন ক্ষিপ্ত হন। তিনি রানাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ এবং তার ছেলেকে ‘বাপের মতো চোর হবি’ বলে উক্তি করেন। একপর্যায়ে ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ ডেকে তাকে অসদাচরণের জন্য আটক করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ ওই কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।

পরে এক সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন শফিউজ্জামান। ১২ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল তারিখ ধার্য রয়েছে।

ঘটনাটি তদন্ত করেছে তথ্য কমিশন। সুষ্ঠু তদন্ত বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

বিবৃতিতে সাংবাদিক শফিউজ্জামানকে প্রতিহিংসামূলকভাবে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সরকারি তদন্তকে স্বাগত জানান সিপিজের এশিয়া প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই। তিনি বলেন, ‘শুধু তথ্য চাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিহিংসার শিকার হওয়া উচিত নয়।’

এ ছাড়া লালমনিরহাটে সরকারি কার্যালয়ে পাঁচ সাংবাদিককে আটকে রাখার বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষের একটি স্বচ্ছ তদন্ত শুরু করা উচিত বলেও জানান তিনি। বেহ লিহ বলেন, সাংবাদিকরা যাতে দায়মুক্তিসহ হয়রানির শিকার না হন, তা কর্র্তৃপক্ষের নিশ্চিত করা উচিত।

গত ১৪ মার্চ তথ্য সংগ্রহ করতে লালমনিরহাট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মাহফুজ সাজু। সেখানে ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির ভিডিও ধারণ করার পর কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাট প্রেস ক্লাবের চার সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিককে মুক্ত করেন। অন্য চার সাংবাদিক হলেন মাজহারুল ইসলাম বিপু, এস কে সাহেদ, নিয়ন দুলাল ও লিয়াকত আলী।

সিপিজের আহ্বানের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছিলেন যে, তথ্য কমিশন ঘটনাটি তদন্ত করবে। প্রতিমন্ত্রী সিপিজেকে বলেছিলেন, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি তিনি ১৮ মার্চ পাবেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিপিজের পরবর্তী অনুরোধে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

এ ছাড়া লালমনিরহাটের ঘটনায় মন্তব্যের জন্যও সিপিজের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত