মস্কোয় হামলা নিয়েও ভিন্ন মত রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫১ এএম

মস্কোর উপশহর ক্রাসনোগর্স্কের এক সিটি হলে কনসার্ট আয়োজনে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত বেড়ে ১৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত মানুষের সংখ্যা দেড় শতাধিক; যাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে মস্কোর প্রাণঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট খোরসান (আইএসআইএস-কে)। দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়ে দুই সপ্তাহ আগেই ক্রেমলিনকে সতর্ক করা হয়েছিল। 

অবশ্য গুলির ঘটনায় ইউক্রেনের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। যদিও ইউক্রেন প্রাণঘাতী এই হামলার পেছনে তাদের হাত নেই বলে বিবৃতি দিয়েছে। তবে হামলা যে পক্ষই চালাক এই সময়ে এ ঘটনা রাশিয়ার জন্য যেমন চমকপ্রদ, তেমনি ইউক্রেন ও তার মিত্রদের জন্যও ভয়ংকর। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন হামলার ঘটনাকে ‘বর্বর সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

গত শুক্রবার যখন ওই হলে হামলা শুরু হয়, তখন গান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সোভিয়েত আমলের রক সংগীত দল পিকনিক। ৬ হাজার ২০০ দর্শক আসনের সিটি হলটি হামলার আগমুহূর্তে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

এই হামলার কিছু ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের যাচাই করা ওই সব ভিডিওতে দেখা গেছে, কনসার্ট উপভোগ করতে আসা দর্শকরা তাদের আসন গ্রহণ করছেন, তখনই একের পর এক গুলির শব্দের মধ্যে তারা চিৎকার করে বের হওয়ার জন্য দরজার দিকে ছুটতে শুরু করেন।

অন্য ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক ব্যক্তি লোকজনের দলের ওপর গুলিবর্ষণ করছে। গুলিবিদ্ধ কিছু মানুষ জমে থাকা রক্তের মধ্যে নিথরভাবে পড়ে আছে।

বিশ্বকে হতবাক করে দেওয়া ওই হামলার পর আইএসের আফগানিস্তান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরসান (আইএসআইএস-কে) হামলার দায় স্বীকার করে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। এরপরই প্রশ্ন ওঠে জঙ্গি গোষ্ঠী রাশিয়ায় কী কারণে হামলা চালাতে পারে?

গতকাল রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে আইএসআইএস-কে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বিরোধিতা করে আসছিল বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা গোষ্ঠী সৌফান সেন্টারের গবেষক কলিন ক্লার্ক বলেন, দুই বছর ধরেই আইএসআইএস-কে রাশিয়ার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছিল, তারা প্রায়ই পুতিনের সমালোচনা করছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, আইএসআইএস-কে রাশিয়াকে এমন কার্যক্রমে জড়িত হিসেবে দেখে যা মুসলমানদের নিয়মিতভাবে নিপীড়ন করে।

কুগেলম্যান আরও জানান, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর যে জঙ্গিরা মস্কোকে ঘৃণার চোখে দেখে, তাদেরও নিজেদের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে আইএসআইএস-কে।

তবে রাশিয়ার দাবি, গুলির ঘটনায় ইউক্রেনের যোগসূত্র রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির প্রধান আলেকসান্দার বর্তনিকোভ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন, যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ‘চার সন্ত্রাসী’ আছে আর এফএসবি তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। রাশিয়ার আইনপ্রণেতা আলেকসান্দার কাইনেস্তিন জানিয়েয়েছেন, হামলাকারীরা একটি রেনো গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, পরে শুক্রবার রাতে মস্কো থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ব্রাইয়ানস্ক অঞ্চলে গাড়িটিকে দেখতে পায় পুলিশ। তাদের থামার সংকেত দিলে তা না মেনে এগিয়ে যায় তারা। গাড়ি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে দুজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরও দুজন পাশের বনে পালিয়ে যায়। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাদেরও আটক করা হয়।

কাইনেস্তিন জানান, গাড়িটিতে তাজিকিস্তানের কয়েকটি পাসপোর্ট, পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের একটি ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে।

এদিকে ওই ঘটনার পর গতকাল টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে ইউক্রেনে ঢুকে যাওয়ার আগে চার বন্দুকধারী গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সঙ্গে রক্তাক্ত, বর্বর সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে কথা বলছি, যার শিকার হয়েছে শতাধিক নিরীহ, শান্তিপ্রিয় মানুষ।’

ক্রেমলিন নেতা বলেন, যে চার সন্ত্রাসী মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে তারা ইউক্রেনের দিকে যাচ্ছিল, তাদের সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা ছিল।

রাশিয়ার এফএসবি নিরাপত্তা সার্ভিসের ভাষ্য, হামলাকারীরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টার আগে ইউক্রেনে নিজেদের লোকজনের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ ছিল।

রবিবার রাশিয়ায় জাতীয় শোক ঘোষণা করে পুতিন বলেন, সন্ত্রাসী, খুনি, অমানুষেরা প্রতিশোধ ও বিস্মৃতির অবর্ণনীয় পরিণতির মুখোমুখি হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত