খুমেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে দুই সংগঠনের ২০০ চিকিৎসক

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪, ০৬:২৫ পিএম

চার দাবিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছেন পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক ও ইন্টার্নি চিকিৎসকের দুটি সংগঠনের অন্তত দুই শ চিকিৎসক। তাদের দাবিগুলো হলো, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ৩০ হাজারে উন্নীত করা, বকেয়া ভাতা পরিশোধ, বিএসএমএমইউ এর অধীনে ১২টি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ভাতা চালু এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষা আইন সংসদে পাস ও বাস্তবায়ন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মবিরতি চলবে আগামী সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় সেবা নিতে সমস্যা হচ্ছে। রোগীদের ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে। ডাক্তাররা অর্থনৈতিকভাবে ব্যস্ত। কেউ মরল নাকি বাঁচল সেটা তাদের দেখার দরকার নেই।

নগরীর হাফিজ নগর এলাকার বাসিন্দা জোসনা বেগম (৫০) বেইন স্টোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৬ দিন আগে ভর্তি হওয়া এ রোগীর ছেলের বউ মুসলিমা বলেন, গতকাল (শনিবার) ডাক্তার এসে খোঁজ নিয়েছেন।

কিন্তু আজ রবিবার সকাল থেকে কোনো ডাক্তার আসেননি। তবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ৫০০ বেডের রোগী হাসপাতাল হলেও তিনগুণ রোগী থাকে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় আমরা ইন্টার্নির ওপর নির্ভর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে খুব দ্রুতই এটার সমাধান হবে। আর রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমাদের যে জনবল আছে তাই নিয়ে আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক ডা. হেদাইয়াত সৌরভ বলেন, বিগত ৪ মাসের বেতনসহ ৬ মাসের বকেয়া ভাতা দেওয়া হয় না। বিএসএমএমইউর আন্ডারের ১২টি প্রাইভেট ইন্সটিউটিউশন হঠাৎ করে কোনো ভাতা দেওয়া হবে না বলে জানায়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক ডা. অমিয় সরকার বলেন, দুটি সংগঠন আমরা একত্রিত হয়েছি। পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রেইনিং চিকিৎসক পরিষদ। চারটি দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ নেতা ডা. আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি বেতনভাতা ১৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ নেতা ডা. দিবাকর চাকমা বলেন, চারটি দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায়ে আজ রবিবার দুপুরে দুটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালের উপপরিচালকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত