এক আঙুলের ছাপে ৪০০ জনের ওমরাহ আসলেই সম্ভব?

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ১০:২২ পিএম

একজন ওমরাহ যাত্রীর আঙুলের ছাপে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ‌্যমে ৪০০ জন বাংলাদেশি ওমরাহ পালনে গিয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিমা এশিয়া উইংয়ের কাছে এক জরুরি চিঠিতে এ অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাস। তবে একজনের আঙুলের ছাপে একাধিক ব্যক্তির ওমরায় যাওয়ার ঘটনাকে ‘অবিশ্বাস্য’ মনে করছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরাহ এজেন্সি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
 
এ বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে’র (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ই-ভিসা প্রসেসিং সিস্টেম চালু করেছেন। যার মাধ্যমে বাড়িতে বসে কিংবা যে কোন কম্পিউটার দোকানে গিয়েও ওমরাহ ভিসা প্রসেসিং করা যায়। ওমরার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। এতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা এজেন্সিগুলোর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা চাই অনিয়ম রোধে পূর্বের প্রক্রিয়া চালু করা হোক।’
 
এদিকে সৌদি দূতাবাস চিঠিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি ওমরাযাত্রীদের ৪০০ জনের একটি দল সৌদি আরব গিয়েছেন একজনের আঙুলের ছাপ নিয়ে, যা সৌদি আরবের নিয়ম-কানুনের লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠাতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলা, অনিয়ম প্রতিরোধ করা এবং ওমরা নিবন্ধনের জন্য হজযাত্রীদের নিজের আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলকভাবে ব‌্যবহার করা।

হজ ও ওমরার সব ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে সৌদি দূতাবাস। এ পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং নিবন্ধনের জন্য ওমরা যাত্রীদের নিজের আঙলের ছাপ দিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এজেন্সিগুলোকে চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) কাছে চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার (২৪ মার্চ) এ বিষয়ে সতর্ক করে ওমরা এজেন্সিগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

তবে ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া ই-ভিসার যে নিয়ম করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাতে এরকম অনিয়ম হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। কারণ সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহর ই-ভিসা পেতে বাংলাদেশি মুসল্লিদের বাধ্যতামূলকভাবে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়। এক্ষেত্রে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক মুসল্লিদের তাদের স্মার্টফোনে ‘সৌদি ভিসা বায়ো’ অ্যাপ ডাইনলোড করতে হয়। তারপর তাদের ভিসার ধরন বেছে নিয়ে পাসপোর্টের তথ্য দিতে হয়। সেখানে এই অ্যাপের মাধ্যমে ই-ভিসার জন্য নাম নিবন্ধন করতে হবে। এখানে আঙুলের ছাপ ও সেলফি দেওয়া বাধ্যতামূলক। ই-অ্যাপে দেওয়া সেলফির সঙ্গে পাসপোর্টের ছবি মিল থাকতে হবে। সবশেষে ক্যামেরার মাধ্যমে ১০ আঙুলের ছাপ স্ক্যান করতে হয়। এতসব প্রক্রিয়ার পর একজন ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক মুসল্লির ই-ভিসা কার্যক্রম শেষ হয়। আর এ প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে বাংলাদেশি এজেন্সি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে ভূঁইয়া হজ গ্রুপ এজেন্সির মালিক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, একজনের আঙুলের ছাপে ৪০০ জন ওমরাহ করতে যাবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ ই-ভিসা ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপের সঙ্গে মুখমন্ডলের ছবি দিতে হয়। সেই ছবির সঙ্গে আবার পাসপোর্টের ছবির মিল থাকলে ভিসা প্রসেসিং সাবমিট হয়। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মঞ্জুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি। এ রকম ঘটনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমরাও বিষয়টি বুঝতে পারছি না। কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেন সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে আমাদের করণীয় নেই। তবুও হজ-ওমরা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় কোন তদন্ত কমিটি হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনও সেরকম সিদ্ধান্ত হয়নি। আর ই-ভিসা হওয়ায় এটা বের করাও কঠিন কাজ।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত