সৌম্য সালেকের কবিতা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০২:২২ এএম

মাতৃবৃক্ষ

রমনায় যে কাঞ্চন বৃক্ষের নিচে মা একবার বিশ্রাম নিয়েছেন

পৃথিবীর সব শ্যামল-শান্তি আমি খুঁজে পেয়েছি তার নিচে;

পৃথিবীর সব পুষ্পশোভা যেন ঝুলে আছে তার শাখায়

মা’র আঁচলের মতোই সুশীতল সে ছায়া

মায়ের কথার মতো কোমল তার ফুল ও পাতার গ্রন্থনা।

 

সেই বৃক্ষের নিচে যেন জড়ো হয়ে আছে মায়ের না বলা কথারা

লুটিয়ে রয়েছে যেন মায়ের ব্যথা-বেদনার অগণ্য অশ্রুকাহন!

মায়ের যে কথা শুনিনি জীবনে, উৎকর্ণ আজ সে কথা শ্রবণে

মাতৃছায়ার যে সুখ জোটেনি জীবনে, সে সুধা অন্বেষে বসেছি নিথর মাগো

মাথায় বুলিয়ে হাত, কোমল কথার-গানে তপ্ত এ হৃদয় জুড়াও।

উত্থিত ভূমির দেশে

 

গোলাপ ছড়ানো পথে একদিন হেঁটেছি অশেষ

নির্নিমেষ পাহাড়ের নিচে বয়ে চলে ছোট এক নদী

তার পাশে ঘনবন, ঝরাবীথি, হলুদ গাছের ছায়া

শান্ত অশ্বদের বিচরণ আমি দেখেছি সেখানে

পাথর বিছানো জলে, কে না চায় নামতে একবার

সে পাথর ফলেছে যেখানে, হিম হিম জলের কিনারে

নতমুখে আমিও তা ছুঁয়েছি নীরবে।

 

বন, গিরি, পাখি ও ফুলের পিছে

দৃষ্টি আর যায় না যেখানে

বিজন সেই খাদে, এই নদী করেছে জীবনের সূচনা

দেখেছি সঙ্গোপনে, তারই পাশে ভিক্ষুরা নিজেদের স্বর্গ করেছে রচনা।

রক্তিম সূচনা

 

প্রবাহন, তোমায় চেয়েছি যৌবনের তুরীয়-তৃষ্ণায়

তোমার প্রশস্ত বুকে লুকাতে চেয়েছি মুখ, হে প্রবাহন

যখন প্রখর সূর্যালোকে চিকচিক করবে সৈকতের বালি সাধ ছিল নীলজলে নামবো দুজন;

হলো না সে কোনো দিন

কথা ছিল খুব ভোরে পালাবো দুজন, ছেড়ে যাবো দ্বিধা আর ধুলার নগরী

কথা ছিল ভাগাভাগি করে নেবো জীবনের ভার ও বেদনা

প্রবাহন কিছুই হলো না

তুমি হলে দূরদেশি, একা আর সইব জখম কত

কত আর বইব বিরহ একা

বলতে বলতেই সে মরালগ্রীবার মাঝখানে চালিয়ে দেয় করাল ছুরিকা এক

লালের উগ্রবেগে মুহূর্তেই ভেসে গেল চারপাশ

মুহূর্তেই লীন হলো সূচনার সব ব্যথা!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত