তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের সাইবার নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তেই এসব হচ্ছে। এ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হলেও সামগ্রিকভাবে চিত্র বদলায়নি। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলপড়–য়া প্রতি ছয়জনের একজন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। গবেষণাটি বলছে, ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার ৪৪টি দেশে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ২০১৮ সালের পর বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় শাখা ‘হেলথ বিহ্যাভিয়ার ইন স্কুল-এজড চিলড্রেন’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করে গত বুধবার। এতেই উঠে আসে সাইবার বুলিংয়ের ক্রমবর্ধমান চিত্র যা বাকি বিশ্বের জন্য একই রকমভাবে মারাত্মক। গবেষকরা বলছেন, ‘তরুণদের যোগাযোগ প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধিই’ এর প্রধানতম কারণ।
ডাব্লিউএইচও ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লগ বলেন, গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘ঘুম জাগানিয়া ডাক (ওয়েক আপ কল)’। সাইবার বুলিংয়ের সম্ভাব্য পরিণতি নিজের ক্ষতিসাধন কিংবা আত্মহত্যা, এমন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন তরুণরা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় কাটাচ্ছেন অনলাইনে। সাইবার বুলিং ও সহিংসতার ছোট-খাটো মাত্রাও হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’
গবেষণা প্রতিবেদনটির তথ্য উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, প্রতি ছয়জন স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ১১, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা তাদের সাইবার বুলিং অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ১৩ বছর বয়সে সাইবার বুলিংয়ের প্রাদুর্ভাব বেশি এবং সববয়সী ছেলেদের মধ্যে এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
