চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন তালুকদার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আল আমিনের মা আগেই মারা গেছেন। তার অসুস্থ বাবা স্বপ্ন দেখতেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবে, কিন্তু সেই ছেলেটিই পরপারে চলে গেল। তার মৃত্যুর খবর শুনে বাবা অচেতন হয়ে যান। ৫ ভাই, ২ বোনের মধ্যে তিনিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছিলেন। ফলে পরিবারের স্বপ্নও ছিল তাকে ঘিরে। তার মৃত্যুতে শোকের মাতম বইছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে।
আল আমিনের ছোট ভাই আবু হানিফ বলেন, ভাইয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা অচেতন হয়ে যান।
জানা যায়, আল আমিনের গ্রামের বাড়ি মাদারিপুর জেলার দাসার উপজেলার কর্ণপাড়া গ্রামে। গত ২৬ মার্চ তিনি গ্রামের বাড়িতে মোটরবাইকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। দুর্ঘটনার ৪ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী সর্বদা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার ভাবনা নিয়ে থাকতেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে ইংরেজি বিভাগের তার সহপাঠী শিক্ষক ও সিনিয়র জুনিয়রের মধ্যে। তার প্রিয় সোহরাওয়ার্দী হলের সেই ২৪৪ নম্বর কক্ষে আজ থেকে তিনি আর যাবেন না। নীরবে সেই কক্ষ ও কক্ষে বসবাসকরা সহপাঠীরাও তার অভাব বোধ করবেন, রেখে দেবেন স্মৃতিতে।
চবি শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমার বিশ্বাস করতে পারছি না যে তিনি আর নেই। কিছুদিন আগেও তার সাথে আলাপ হয়েছে। তিনি বেশ ভালো মনের মানুষ ছিলেন।
