সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাইবান্ধায় ক্রাইম পেট্রোল দেখে জিৎ হত্যাকাণ্ড

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৭:২৯ পিএম

গাইবান্দার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী (নামাপাড়া) গ্রামের করতোয়া নদীর তীরবর্তী ভুট্টা ক্ষেত থেকে জিৎ কুমার বাদ্যকরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার (৩০ মার্চ) পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেন। জিৎ কুমার ওই গ্রামের রঞ্জিত বাদ্যকরের ছেলে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত ছিল। 

জানা গেছে, জিৎ হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল রবিবার দু’জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন বাবা রনজিৎ কুমার বাদ্যকর। এ মামলার আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মিলন কুমার দাসের ছেলে বিশ্বনাথ (২২) ও বিশ্বজিৎ (১৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, জিৎ কুমার বাদ্যকরের বাড়িতে তার নানী প্রতিমা বালাও (৬০) থাকেন। জিৎ কুমার মাঝেমধ্যে তার নানীর মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতেন। ওই মোবাইলে থাকা সিমে প্রতিমা বালার বয়স্ক-ভাতার টাকার জমা হত। গত শুক্রবার দুপুরে ফোন নিয়ে বাড়ির পাশে হরিতলা বাজারে যায় জিৎ কুমার। 

সেখানে তার হাত থেকে মামাতো ভাই বিশ্বজিৎ ফোনটি কেড়ে নিয়ে সিমটি খুলে নেন। পরে ভুক্তভোগী ফোনটি তার বাড়িতে ফেরত দিলে সিমের কথা জানতে চায় তার মা। এ সময় সিমটি বিশ্বজিৎ খুলে নিয়েছে বলে জানায় জিৎ কুমার। জিৎ কুমারের মা বিউটি বাদ্যকর বিশ্বজিৎদের কাছে সিমটি ফেরত চান। এক পর্যায়ে বিশ্বজিৎ সিম ফেরত দেওয়ার কথা বলে জিৎ কুমারকে ডেকে নেয়। অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ কৌশলে জিৎকে নিয়ে  সেই  চরে সিম আনতে যায়। সেখানে জিৎ কুমারকে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। শনিবার স্থানীয়রা ভুট্টা ক্ষেতে জিৎ কুমারের মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত জিৎ এর মরদেহ স্বজনরা শনাক্ত করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার জানান, আসামি বিশ্বজিৎ ক্রাইম পেট্রোল দেখে এ হত্যার পরিকল্পনা করেন। সিম থেকে বয়স্ক ভাতার টাকার নিতেই জিৎকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বিশ্বজিৎ। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে বিশ্বনাথকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বিশ্বজিৎকে আগামীকাল কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত