রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিষপানে স্বামীকে হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৮:০৬ পিএম

খুলনায় স্বামীকে বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মোছাম্মাৎ নাদিরা বেগম (৪০) নামের এক নারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক নীলা রানী কর্মকার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নাদিরা বেগম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি খুলনার রূপসা উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের মৃত মোদাচ্ছের আলীর স্ত্রী।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শিউলি আক্তার লিপি। এ মামলার অপর আসামি নাদিরা বেগমের পরকীয়া প্রেমিক বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার পশ্চিম বাহিরদিয়া গ্রামের কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শিউলি আক্তার লিপি জানান, রূপসা উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের মোদাচ্ছের আলীর স্ত্রী মোছাম্মাৎ নাদিরা বেগমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার পশ্চিম বাহিরদিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার শেখের ছেলে কামরুল ইসলামের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। মোদাচ্ছেরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নাদিরার ভালো সম্পর্ক ছিল না। ২০০৬ সালে মোদাচ্ছের অসুস্থ হয়ে পড়লে তার শরীরে স্যালাইন পুশ করা হয়। ওই স্যালাইন চলার সময় নাদিরা বেগম প্রেমিক কামরুল ইসলামের প্ররোচনায় বিষ মিশিয়ে দেয়। ফলে বিষক্রিয়ায় মোদাচ্ছের মারা যায়।

এ ঘটনায় নিহত মোদাচ্ছেরের ভাই মৃত মোশাররফ শেখ বাদী হয়ে ২০০৬ সালের ২ মে মোদাচ্ছেরের স্ত্রী নাদিরা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রূপসা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিরাশ উদ্দিন নাদিরা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত