সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বৌদি-ননদের ভোটযুদ্ধ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৯ পিএম

ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিক শারদ পাওয়ারের পরিবারে গত বছর রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়। মহারাষ্ট্রের সেই বিভাজন গড়াল আসন্ন লোকসভা ভোটের মাঠে। শারদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) একদল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে শিবসেনার একাংশের নেতা একনাথ শিন্ডের সরকারে যোগ দেন। এবার শারদকন্যা সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন অজিতপত্নী সুনেত্রা পাওয়ার। অর্থাৎ পাওয়ার পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি বলে পরিচিত বরামতী লোকসভা কেন্দ্রে দেখা যাবে বৌদি-ননদের লড়াই। এ নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে চলছে তুমুল আলোচনা। মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন অজিত পাওয়ার। এই সরকারের অন্যতম অংশীদার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজনীতিতে শারদ পাওয়ার সবসময়ই বিজেপিবিরোধী অবস্থান ধরে রাখেন। জাতীয় কংগ্রেসের পাশাপাশি শারদ পাওয়ারের এনসিপির সমর্থনে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু উদ্ধবের দল ভেঙে একনাথ যোগ বিজেপির হাত ধরে সরকার গঠন করেন। দুভাগ হয়ে যায় শিবসেনা। পরে অজিতও কাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল ভেঙে যোগ দেন একনাথের সরকারে। আসন্ন লোকসভা ভোটে পাওয়ার পরিবারের বিভাজন যেন প্রকট হয়ে দাঁড়াল। অজিতের নেতৃত্বাধীন এনসিপি ঘোষণা করে, বরামতী লোকসভা আসনে অজিতের স্ত্রী সুনেত্রাই প্রার্থী। অজিতপন্থি এনসিপি নেতা সুনীল তটকরে প্রার্থী ঘোষণার সময় বলেন, ‘এই লড়াইকে পারিবারিক কলহ হিসেবে না দেখে মতাদর্শের প্রতিযোগিতা বলা উচিত হবে।’

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বরামতী লোকসভা শারদ পাওয়ারে ঘাঁটি বলে পরিচিত। এখান থেকে এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শারদ পাওয়ার টানা ছয়বার বিধায়ক হয়েছেন। লোকসভায় জিতেছেন টানা পাঁচবার এবং সর্বমোট ছয় বার। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কন্যা সুপ্রিয়াকে নিজের এই আসন ছেড়ে দেন শারদ। এরপর টানা তিন বার লোকসভা ভোটে সুপ্রিয়া জিতেছেন। এবার এই আসনে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন তারই বৌদি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত