মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুদহার আরেক দফা বেড়ে হলো ১৩.৫৫ শতাংশ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৬ এএম

মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশের ব্যাংকঋণের সুদহার আরও এক দফা বাড়ল। এপ্রিল মাসের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সুদ হার বাড়িয়ে গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ধাপে ধাপে সুদহার বাড়লেও দেশের মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনা যায়নি। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। তবে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্টেরও বেশি। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা প্রায় অসম্ভব।

গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে হয় ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। আর চলতি মাস এপ্রিলে তা হচ্ছে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাজারে টাকার সরবরাহ আরও কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য বাড়ানো হয়েছে নীতি সুদহার। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে আগের চেয়ে বেশি সুদ দিতে হবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে। এ পদক্ষেপে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপে ভোক্তা ঋণের সুদ দিতে হবে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ সুদ, যা মার্চে ছিল ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ। তার আগে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জানুয়ারিতে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ‘স্মার্ট’-এর সঙ্গে ৩ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ হবে, যা এতদিন ছিল ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক হারে মার্জিন যোগ হবে, যা আগে ছিল ২ দশমিক ৫০ শতাংশ। সে হিসাবে, চলতি বছরের এপ্রিলে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ হবে। অর্থাৎ এপ্রিলে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা মার্চে ১২ দশমিক ১১ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

তবে মার্চে ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে ব্যাংক সুদ নিতে পারবে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। কারণ সিএমএসএমই, ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ তদারকি বা সুপারভিশন চার্জ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ও ভোগ্যপণ্য যেমন গাড়ি কেনার ঋণ, আবাসন ঋণ, শিক্ষা ঋণসহ ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার ইত্যাদি ক্রয় করার জন্য যে ঋণ নেওয়া হয়, মূলত সেগুলো ভোক্তা ঋণ।

এখন যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা সিক্স মান্থ মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এ হার জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং সর্বশেষ মার্চে স্মার্ট রেট প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারির মতো মার্চেও স্মার্ট রেট বেশি বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুদহার মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণের সুদহার নির্ধারণের ‘স্মার্ট’ মার্জিন রেট দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দশমিক ২৫ শতাংশ কমিয়েছিল। অর্থাৎ দুই মাসে কমল দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত জানুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দামে অস্থিতিশীলতা, বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের দামের ওঠানামা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় মাত্রায় না আসা, মুদ্রা বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতা ও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে না কমে আসা পর্যন্ত নীতি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত