মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন কে ভাঙল জানে না কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৬ এএম

ছুটির দিনে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের একটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে কে বা কারা দিনেদুপুরে ভবনটি ভেঙে ফেলেছে তা জানেন না ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

জানা যায়, জামালপুর-সরিষাবাড়ী সড়কের পূর্ব পাশে কালীবাড়ি বাজারের আগে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রটি অবস্থিত। ওই কেন্দ্রের ২৫ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রস্থের শতবর্ষী একটি ভবনের তিনটি কক্ষ দাতব্য চিকিৎসালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এমন একটি জনবহুল জায়গায় ছুটির দিনে গত শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান গেট অতিক্রম করতেই চোখে পড়ে ওই কেন্দ্রের মাঠজুড়ে পড়ে থাকা ভাঙা ভবনের অংশবিশেষ ও পুরনো ইট। এ ছাড়া ওই ভাঙা ভবনের কিছু রড ও ভবন ভাঙার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু গাড়ি কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে রয়েছে। কে বা কারা কী কারণে এই ভবন ভেঙেছে এমন প্রশ্নের উত্তর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মচারীদের জানা নেই।

তবে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন রায় বলেন, ‘বৃহস্পতিবার অফিস শেষে চলে যাই। পরে শনিবার অফিসে এসে দেখি পরিত্যক্ত ভবনটি কে বা কারা ভেঙে নিয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে বসবাসকারী খালেদা বেগম বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের পাশে থাকি। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের লোকজন ভবন ভাঙা শুরু করে। রাত ১টা পর্যন্ত ভবন ভাঙার কাজ চলে। আমার ছেলে জিজ্ঞেস করতে গেলে, তাকে মারধর করতে আসে তারা।’

একই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহিন দাবি করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের নির্দেশে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাজু বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলেছে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলেও তারা তা দেখাননি।’

ভবন ভাঙার বিষয়ে কেন্দুয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবন ছিল। শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এটি ভাঙা হয়। চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন এসব ভাঙাচোরা করেছে।’

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান সোহেলের সহযোগী সাজুর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। শতবর্ষী ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভবন ভাঙার একটি টেন্ডার হয়েছিল। সেই টেন্ডারের টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শতাংশ জমির প্রায় বিশ শতাংশ বেদখল হয়েছে। যারা ওই জমি বেদখল করেছে, তারাই ওই টেন্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ভবনটি ভাঙতে দেয়নি। আমি নিজের টাকা খরচ করে কেন ওই ভবনটি ভাঙতে যাব?’

কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল বলেন, ‘দুই বছর আগে যারা টেন্ডারে ভবনটি পেয়েছেন, তারাই মনে হয় ভবনটি ভেঙেছেন। এখন আমি তাদের ভাঙা ভবনের জিনিসপত্র পাহারা দিচ্ছি।’

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তমকুমার সরকার বলেন, ‘রবিবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভবনের অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে।’

সদর থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত