মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য কাটা পড়ছে ৪৬ গাছ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪১ এএম

গাছ রক্ষায় আবারও সরব চট্টগ্রামবাসী। এবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক নগরীর টাইগারপাস ও পলোগ্রাউন্ড এলাকার মধ্যবর্তী প্রাকৃতিক দ্বিতল সড়কের ডিভাইডারে থাকা ৪৬টি গাছ কাটতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগ থেকে অনুমোদনও নিয়ে নিয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য এসব গাছ কাটা হচ্ছে বলে প্রকল্প পরিচালক নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গাছ কেটে র‌্যাম্প নির্মাণ হতে দেবে না বলে গতকাল টাইগারপাস মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ।

টাইগারপাস মোড় থেকে নগরীর নিউ মার্কেটের দিয়ে যাওয়ার সময় সিআরবি সড়কে অনেক গাছ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শতবর্ষী বৃক্ষ রয়েছে অনেক। একই এলাকায় আবার প্রাকৃতিকভাবে দ্বিতল সড়কও রয়েছে। দুটি নয়, এখানে তিনটি সড়ক রয়েছে ধাপে ধাপে। এ সড়কের মধ্যবর্তী স্থানের পাহাড়ের ঢালে শতবর্ষী গাছ রয়েছে। এখন সিডিএ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় র‌্যাম্প নির্মাণ করতে গেলে এসব গাছ কাটা পড়বে। ইতিমধ্যে গাছগুলো মার্কিং করা হয়েছে, সার্ভেও করা হয়েছে। রেলওয়ের কাছ থেকে র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য জায়গাও চাওয়া হয়েছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বড় গাছগুলোর মধ্যে এক বা দুটি কাটা পড়তে পারে। এ ছাড়া বাকিগুলো ছোট গাছ। তাই এলাকার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ জায়গায় র‌্যাম্প নির্মিত হলে এবং গাছগুলো কাটা পড়লে টাইগারপাস এলাকার যে সবুজায়ন আবহ থাকবে তা নষ্ট হয়ে যাবে। একই সঙ্গে এ গাছগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রাণীর যে বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠেছে, তা বিনষ্ট হবে। নষ্ট হবে এলাকার সৌন্দর্য।

এ বিষয়ে গতকাল টাইগারপাস এলাকায় বিক্ষোভ করতে আসা পরিবেশকর্মী ও ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান বলেন, ‘গাছ কেটে র‌্যাম্প নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। সিআরবি রক্ষায় আমরা আগে যেমন সক্রিয় ছিলাম, এখানেও থাকব। কোনোভাবেই গাছ কাটতে দেওয়া হবে না।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য পশ্চিম দিকে জায়গা রয়েছে। প্রয়োজনে সেদিক দিয়ে নির্মাণ করা হোক। একই মন্তব্য করেন এ জায়গার মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ২১ দশমিক ৭৭ শতক ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছে সিডিএ। তখনই বলেছি অন্য কোনো স্থান দিয়ে র‌্যাম্প নির্মাণের। এ জায়গা দিয়ে গেলে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হবে।’

তবে এ জায়গায় র‌্যাম্প নির্মাণের কোনো প্রয়োজন নেই বলে নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি। যেহেতু টাইগারপাসে একটি ব্রিজ রয়েছে এবং সেই ব্রিজ দিয়ে সহজেই পতেঙ্গার দিকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে আর কেউ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে চাইলে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকেও উঠতে পারবে।

এদিকে আগামী মাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সিডিএর। এর আওতায় যে ১৫টি র‌্যাম্প নির্মিত হবে সেগুলো ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত