শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছাগল চোর বলায় ৬ বছরের শিশুকে হত্যা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৮ পিএম

একজনের ছাগল চুরি করে সেটি স্থানীয় একটি হাটে বিক্রি করে দেয় আশিক (১৪)। পরবর্তীতে এলাকায় চুরির ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে চুরির দায়ে অভিযুক্ত আশিককে দায়ী করে জরিমানা করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিবেশী বাড়ির এক শিশু আশিককে দেখলেই ছাগল চোর, ছাগল চোর বলে ডাকতে থাকে। এতে চরমভাবে অপমানিত হত আশিক। 

সম্প্রতি আশিকের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন বেড়াতে এলে সেখানেও রোমান মিয়া আশিককে ছাগল চোর বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোমানকে উচিত শিক্ষা দিতে হত্যার পরিকল্পনা করে আশিক। সেই মোতাবেক রোমান (৬) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তামাক ক্ষেতে লুকিয়ে রাখে আশিক। ঘটনার পরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে আশিক।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সাংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা করেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। 

তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করায় তার টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, আজ বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে আশিক। আদালত কিশোর আশিককে যশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

গত শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের খোলাহাটি সেতুবাজার এলাকা থেকে রোমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশু রোমান মিয়া ওই এলাকার আমিনুর হকের ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের একদিন আগে গত ২৯ মার্চ ইফতারের কিছুক্ষণ আগে ত্রিমোহনী বাজার থেকে নিখোঁজ হয় শিশু রোমান। 

ওই দিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তাকে না পেয়ে মাইকিং করে পরিবারের লোকজন। পরদিন শনিবার বিকেলে সেতুবাজার এলাকার একটি তামাক ক্ষেতে কিছু লোক কাজ করতে গেলে সেখানে শরীরের অর্ধেক পুতে রাখা একটি মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। এলাকার লোকজন নিশ্চিত করে মরদেহটি নিখোঁজ শিশু রোমানের।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত