রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্যাটিং কৃতিত্বে তিনে তাইজুল, ব্যাটসম্যানরা...

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪ এএম

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা যেন দেশের ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণের প্রতিচ্ছবি। যেখানে লড়াইয়ের কোনো ছাপ নেই। নেই ধৈর্য ধারণের চেষ্টা। বড্ড অভাব টেস্ট মানসিকতার। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে কাগজে-কলমে খেলা বাকি থাকলেও অপেক্ষা কেবল আরও একটি হারের। অথচ ক্রিকেটের কুলীন সংস্করণটিতে বাংলাদেশ কাটিয়ে ফেলেছে ২৪টি বছর, দীর্ঘ দুটি যুগ। ব্যাটিং ব্যর্থতা এতটাই চরমে যে মুমিনুল হকের পর বেশি বল খেলার হিসাবে তৃতীয় নামটি তাইজুল ইসলামের।

সিলেট ও চট্টগ্রাম, দুটি মাঠই পরিচিত দেশের সবচেয়ে স্পোর্টিং উইকেট হিসেবে। সেখানেই বার বার দেখা দিয়েছে ব্যাটসম্যানদের টেম্পারামেন্টজনিত সমস্যা। দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে ২০০’র বেশি বল খেলেছেন কেবলমাত্র একজন- ওই টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক। সর্বোচ্চ রানও তার ১৭৫। এছাড়া চার ইনিংস মিলিয়ে ১০০ রান করতে পেরেছেন কেবল জাকির হাসান। তিনি খেলেছেন ১৭৩ বল। আশ্চর্য শোনালেও স্বীকৃত ব্যাটসম্যান জয়, দীপু, লিটন, শান্তর চেয়ে বেশি বল খেলেছেন তাইজুল ইসলাম, দুবার নাইটওয়াচম্যানের সফল দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৭০ বল খেলে ফেলেছেন, আজ মিরাজের সঙ্গে হারের অপেক্ষা যতটুকু সম্ভব দীর্ঘ করার প্রয়াসে ব্যাটিংয়ে নামবেন তিনি।

তৃতীয় দিনে ৪৫৫ রানে এগিয়ে থেকে গতকাল নেমে ফিফটি পূর্ণ করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস আউট হওয়ার পরও শ্রীলঙ্কা লিডটুকু ছাড়িয়ে নিয়ে যায় পাঁচশর ওপারে। ৭ উইকেটে ১৫৭ রানে তারা ঘোষণা করে ইনিংস। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় অসম্ভব গোছের ৫১১ রান। সাগরিকার ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে মান বাঁচানোর একমাত্র পথ ছিল পৌনে দুই দিন ক্রিজে পড়ে থাকা। সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ওই পুরনো জুজু, অধৈর্য। দিনশেষে ৭ জন ব্যাটসম্যান ফিরে গেছেন সাজঘরে। রান অবশ্য এসেছে বোর্ডে, ওভারপ্রতি ৪ করে রান রেটে ২৬৮। ৫ ইনিংস পর দুশো ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০০৪ সালে ঘরের মাটিতে টানা পাঁচ দলীয় ইনিংসে দুইশর নিচে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এবারও তাই। তবে এর চেয়েও বাজে রেকর্ড আছে। ২০০১-২০০২ সালে দেশে-বিদেশে মিলিয়ে টানা ১১ ইনিংসে দুইশ রানের আগেই ইনিংস গুটিয়েছিল বাংলাদেশের। সবশেষ এমন কিছু হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেবার ৮ ইনিংসে দুইশ ছাড়াতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

দিন শেষে মাইক্রোফোনের সামনে বসে সিরিজে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার মুমিনুল হক সৌরভ কিছু তীক্ষè কথা বলেছেন। তুলে ধরেছেন হতশ্রী নৈপুণ্যের পেছনে তেতো সত্যগুলো। মুমিনুল প্রথমেই কারণ হিসেবে দেখান, ‘হতে পারে অনেক দিন পরে টেস্ট খেলছি। আপনার কাছে এটা একটা অজুহাত হতে পারে। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার তো সমস্যা হয়নি? আমার সমস্যা হয়নি। কিন্তু যারা খেলছে, তারা বেশির ভাগ সাদা বলে খেলে আসছে। এটাই বাস্তব। জিনিসটা নেতিবাচক হতে পারে। কিন্তু নেতিবাচক হলেও অনেক সময় সত্য হয়।’ মুমিনুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক টেস্টের মধ্যকার ফাঁরাক, ‘আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান আর টেস্ট ক্রিকেটের মান কি এক? শুনতে খারাপ লাগবে, কিন্তু আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ও টেস্ট ম্যাচ খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। আকাশ-পাতাল তফাৎ। আপনারাও জানেন। আমিও জানি। সবাই জানে। এটা অজুহাত নয়। আমি নিজেও জাতীয় লিগ খেলি। এখানে (টেস্টে) যে ধরনের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়, সেখানে তা হয় না। আমার কথা হয়তো অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি সততার জায়গা থেকে কথাগুলো বলছি।’

অধৈর্য হয়ে অহেতুক শটে উইকেট বিলিয়ে আসার হিড়িকও ছিল প্রচুর। এক বছর পর টেস্ট খেলতে নামা সাকিব ও লিটন মিলে গতকাল গড়েন ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। সেটাও ৬১ রানের। দুজনই নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন একেবারেই থিতু হওয়ার পর। এছাড়া ৫০ পেরোয়নি আর একটি জুটিও। সিরিজটিকে পুরোই নিজের করে নিয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিস। লঙ্কানদের হয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানোর পর হাত ঘুরাতে এসে কাল দুটি উইকেটও ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। শেষ দিনে লঙ্কানদের অপেক্ষা কতখানি দীর্ঘ হতে পারে সেটিই এখন দেখার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত