রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বান্দরবানে ব্যাংকে কেএনএফের হামলা, টাকা অস্ত্র লুট

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১৭ এএম

বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকে হামলা চালিয়ে টাকা ও কয়েকটি অস্ত্র লুট করেছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। হামলাকারীরা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকেও তুলে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সদস্যরা এ হামলায় অংশ নেয় বলে রুমার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিদারুল আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে কেএনএফের ৭০ থেকে ৮০ জন সশস্ত্র সদস্য রুমা উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে পাহারারত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করতে থাকে। পরে ব্যাংকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

রুমার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও দিদারুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেএনএফের সদস্যরা সোনালী ব্যাংক রুমা শাখা লুটপাট করেছে। ব্যাংকের পাহারারত পুলিশ-আনসার সদস্যদের চারটি অস্ত্র লুট করে নিয়ে গেছে। কেএনএফ সন্ত্রাসীরা মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদেরও মারধর করে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিনকে সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে কি না, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’ হামলার পর উপজেলা পরিষদে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানান দিদারুল আলম।

সোনালী ব্যাংক বান্দরবান অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ ওসমান গণি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক রুমা শাখার ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিনকে কেএনএফ সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। রুমা শাখায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা থাকার কথা। সেগুলো ভল্ট ভেঙে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর এ অঞ্চলের ব্যাংকের সব শাখায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

হামলায় কেএনএফের প্রায় ১০০ সদস্য অংশ নেয় জানিয়ে রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈ বং মারমা বলেন, ব্যাংকের কর্মীরা নামাজ পড়ছিলেন। ঠিক তখনই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ম্যানেজারকে অপহরণের পাশাপাশি নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু অস্ত্র ও মোবাইল ফোন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার নেজাম উদ্দিন পাশের একটি মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন। তিনি ব্যাংকে গোলমাল হচ্ছে শুনে এগিয়ে যান। তখন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা করছিল। নেজাম উদ্দিন শাখা ব্যবস্থাপক বুঝতে পেরে তারা অপহরণ করে নিয়ে যায়।

রুমা থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজাহান ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনে বলেন, কারা এ হামলা করেছে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। কত টাকা নিয়ে গেছে তা ভল্ট পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, তারা ভল্ট পরীক্ষা করে দেখার পর লুট হওয়া টাকার পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে হামলার ঘটনার পর পুরো রুমা সদরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা টহল কার্যক্রম জোরদার করে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।

কেএনএফ ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে বান্দরবানে তৎপরতা শুরু করে। পাহাড়ে তাদের আস্তানায় সমতলের নতুন জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যরা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সেই আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত বছর অভিযান চালিয়ে জামা’আতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া ও কেএনএফের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত