রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অনলাইন ভোটের ফল

‘ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে ৯৭% বুয়েট শিক্ষার্থী’

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩১ এএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, তারা নিজ নিজ প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার করে ছাত্ররাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে অনলাইনে ভোটগ্রহণ করেন। তাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ব্যাচের ৫ হাজার ৮৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৩ জনই ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন। অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে। গতকাল বুধবার বুয়েট প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বর্তমানে রাজনৈতিক মহল দ্বারা প্রভাবিত হাতেগোনা গুটিকয়েক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনছে। প্রমাণ ছাড়া এমন বানোয়াট অভিযোগের নিন্দা জানানো হচ্ছে। তারা ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তা থেকে সরে এসে বৃহত্তর স্বার্থকে গ্রহণ করে নেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।’

এদিকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ছাত্রদল এ সংহতির কথা জানায়। ‘বুয়েট সংকট : সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন এবং গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির দাবি’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। বুয়েট ক্যাম্পাসে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি ছাত্রদল সংহতি জানায়। আবরার ফাহাদ হত্যার পর মুষ্টিমেয় দুয়েকজন বাদে বুয়েটের সব শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। নিরাপত্তার অভাবে তারা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলেন। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা স্বস্তি ও নিরাপত্তা লাভ করেন। আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটে ছাত্রলীগের টর্চার সেল বন্ধ হয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের হলে ছাত্রলীগের টর্চার সেলে নির্যাতন অব্যাহত আছে। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে সব রাজনৈতিক দলের সহাবস্থানের ভিত্তিতে সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাসী। তারা বুয়েটসহ দেশের সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও সহাবস্থান দাবি করছে।

তবে ছাত্রদলের এ সংহতিকে রাজনৈতিকভাবে মদদপুষ্ট সংহতি উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বুয়েট ইস্যুতে ছাত্রদল বলছে তারা একটি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে সুস্থধারার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতিচর্চায় বিশ্বাসী। ছাত্রদল বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ক্যাম্পাসে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। আমরা বুয়েট শিক্ষার্থীরা, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে চলমান আন্দোলনের এ সংকটপূর্ণ মুহূর্তে ছাত্রদলের এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করি এবং তাদের এ রাজনৈতিকভাবে মদদপুষ্ট সংহতিকে আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘আমরা আবারও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, আমাদের অবস্থান কোনো একক ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়। আমরা ছাত্ররাজনীতিই ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিরুদ্ধে, অতএব এটি করতে চায় এমন যেকোনো সংগঠনের বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান সমান এবং অনড়। আরও উল্লেখ্য যে, হিযবুত তাহরীরের মতো নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠনের অস্তিত্বকেই আমরা সমর্থন করি না। সেখানে এরূপ নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থন বা সহানুভূতি গ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসে সব দলের ও মতের লেজুড়বৃত্তিক সাংগঠনিক রাজনীতি এবং মৌলবাদী দলগুলোর বিপক্ষে আছে এবং থাকবে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমাদের এ অবস্থান সব দল ও মতের ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।’

এদিকে বুয়েটে ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ সব প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি চায় ছাত্রলীগপন্থি কিছু শিক্ষার্থী। ছাত্ররাজনীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। গতকাল বুয়েটের ড. এমএ রশিদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ছাত্রলীগপন্থি এসব শিক্ষার্থী। বুলিংকারীদের নাম উল্লেখসহ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে বিচার চেয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত