মোবাইলে ভিডিও গেমস ইনস্টলের কথা বলে বন্ধুকে ডেকে হত্যা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩২ পিএম

পাওনা টাকা না পেয়ে ফ্রি ফায়ার গেম ইনস্টল করার কথা বলে তারাবির নামাজের পর ডেকে নিয়ে বগুড়ায় রেদোয়ান (১৮) নামের এক তরুণকে কুপিয় হত্যা করেছে তার বন্ধু। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বন্ধু আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (৫ এপ্রিল) রাতে জেলার কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর ইউপির পাতানজো পূর্বপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।

আজ শনিবার (৬ এপ্রিল) বেলা দেড়টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

নিহত রেদোয়ান (১৮) কাহালুর পাতানজো গ্রামের মেরাজুল ইসলামের ছেলে ও এ বছর দূর্গাপুর এনায়েতউল্লাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এছাড়াও পরিবারের সাথে কৃষি কাজ করতেন৷ গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবুল কাশেম একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ও নিহত রেদোয়ানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত রেদোয়ান ও আসামি কাশেম একই এলাকার বাসিন্দা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ৭ মাস আগে রেদোয়ানের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা দিয়ে কাশেম একটি মোবাইল কেনে। পরে রেদোয়ান মোবাইলটি ফেরত নিয়ে নেয় কাশেমের থেকে। কিন্তু কাশেমকে ১১ হাজার টাকা ফেরত দেয় না। কাশেম টাকা ফেরত চাইলে টাকা না দিয়ে রেদোয়ান তালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে রেদোয়ান টাকা দিতে অস্বীকার করে। এতে কাশেমের ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং রেদোয়ানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাশেম নতুন একটি হাসুয়া কিনে আনে এবং পুকুরপাড়ে লুকিয়ে রাখে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তারাবির নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে রেদোয়ানকে মোবাইলে ফ্রি-ফায়ার গেম ইনস্টল করে দেয়ার কথা বলে স্থানীয় পুকুর পাড়ে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে গেম ইনস্টল করার সময় কৌশলে পেছন থেকে হাসুয়া দিয়ে রেদোয়ানের ঘাড়ে আঘাত করে কাশেম। রেদোয়ানের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে দূরে ডিপকলের ড্রেনের কালভার্টের নিচে হাসুয়া লুকিয়ে রেখে বাড়ি যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, রেদোয়ান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কাহালু থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এবং রাতেই হত্যাকারী আবুল কাশেমকে শনাক্ত করে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আকতার, (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, (ডিএসবি) মোতাহার হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরাফত ইসলাম, কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজ হাসান।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আসামি আবুল কাশেমকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত