রোজা ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে একটি। হিজরতের আঠারো মাস পর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী রমজানের রোজা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেন। লাভ করেন অফুরন্ত সওয়াব ও পুরস্কার। এই বিষয়ে নির্বাচিত কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো।
রোজার সুপারিশ : কিয়ামতের ময়দানে অনেকেই সুপারিশ করার অধিকার লাভ করবেন। তার মধ্যে রোজা একটি। রোজার সুপারিশ কবুল করা হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন রোজাদার বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি এ ব্যক্তিকে দিনে খাবার ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত রেখেছি। আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে, হে আল্লাহ! আমি এ ব্যক্তিকে রাতের নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।’ -মুসনাদে আহমদ ৬৩৩৭
রোজাদারের সম্মান : প্রত্যেকটি জান্নাতের আলাদা স্তর ও বিশেষ বিশেষ দরজা আছে। একটি দরজার নাম রাইয়ান। এটা শুধু রোজাদারদের অভ্যর্থনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা আছে যাকে বলা হয় রাইয়ান। এ দরজা দিয়ে কেয়ামতের দিন একমাত্র রোজাদার লোকেরাই প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ এ পথে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন এ বলে ডাক দেওয়া হবে, রোজাদার লোকেরা কোথায়? তারা যেন এ পথে প্রবেশ করে। এভাবে সব রোজাদার ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর আর কেউ এ পথে প্রবেশ করতে পারবে না।’ -সহিহ মুসলিম ১৯৪৭
রোজার ফজিলত : প্রত্যেক রোজাদার ব্যক্তি ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেন। তাকওয়ার অনন্য গুণ হাসিল করেন। এজন্য তারা অনেক ফজিলতের অধিকারী। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে লোক রমজান মাসের রোজা রাখবে ইমান ও চেতনা সহকারে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। -(সহিহ বুখারি ৩৭) হজরত আবু সাাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছর দূরে সরিয়ে রাখবেন।’ -সহিহ বুখারি ২৬৪৩
আল্লাহর হাতে পুরস্কার : রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ কুদরতি হাতে প্রদান করবেন। সে প্রতিদান কত বড় হবে তা চিন্তা ও কল্পনারও ঊর্ধ্বে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি আমল দশ থেকে সাতশ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজা আমার জন্য এবং আমি এর প্রতিদান দেব। কারণ সে আমার জন্য তার কামাচার এবং পানাহার বর্জন করে। রোজা পালনকারী ব্যক্তির জন্য খুশির বিষয় দুটি। একটি খুশি ইফতারের সময়। আরেকটি খুশি তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। তার মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট।’ -সহিহ মুসলিম ২৫৭৮
রমজান পরবর্তী রোজা : রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালে আরও ছয় রোজা রাখতে হয়। এটার ফজিলত অনেক। হজরত আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ যদি রমজানের সিয়াম পালন করে এবং পরবর্তী সময়ে শাওয়ালের ছয় দিন রোজা রাখে তবে সে যেন সারা বছরে সিয়াম পালন করল।’ -সহিহ মুসলিম ১১৬৪
রোজার পুরস্কার জান্নাত : রোজার সমতুল্য অন্য কোনো আমল নেই। এর পুরস্কার সরাসরি জান্নাত। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আগমন করে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন, তুমি রোজা রাখো। কেননা এর সমতুল্য কোনো আমল নেই। আমি পুনরায় তার কাছে একই কথা বললাম। তিনি বললেন, তুমি রোজা রাখো।’ -সুনানে নাসায়ি ২৫৩০
