মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তশহর হারাল জান্তা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২৯ পিএম

সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় নাস্তানাবুদ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এবার মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহর মায়াওয়াদ্দির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা সেনাবাহিনী। এই শহর দিয়ে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সবধরণের আমদানি ও রপ্তানি হয়ে থাকে। শনিবার (৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছর আগে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক বাহিনী আরেকটি বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণে থাকা জান্তা সেনারা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি কারেন বিদ্রোহীদের। শুক্রবার কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন ঘোষণা দেয় যে, মায়াওয়াদ্দি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের শহর থাঙ্গানিনাং শহরের একটি ব্যাটালিয়ন আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণের সময় নিজেদের উচ্ছ্বসিত যোদ্ধাদের একটি ভিডিও পোস্ট করেছে এই গোষ্ঠীটি। ওই ভিডিওতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ অস্ত্রাগারও দেখিয়েছে তারা। 

এছাড়া সপ্তাহান্তে কারেন বাহিনী মায়াওয়াদ্দির ভেতরে জান্তা বাহিনীর শেষ অবশিষ্ট ব্যাটালিয়নের সাথেও আলোচনা করেছে। আলোচনার পর তারাও বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছে।

এই শহরটি কৌশলগত ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ থাইল্যান্ডের সাথে মিয়ানমারের স্থলপথে বাণিজ্যের বেশিরভাগই মায়াওয়াদ্দির মধ্য দিয়েই হয়। এটি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার জন্য গুরুতর ধাক্কা। মূলত জান্তা সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শান প্রদেশে এবং বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে রাখাইন প্রদেশের পাশাপাশি চীনা সীমান্তের বিশাল এলাকা থেকেও বিতাড়িত হয়েছে।

আর একের পর এক পরাজয়ের মুখে পড়ার সময় হাজার হাজার জান্তা সৈন্য ইতোমধ্যেই হয় নিহত হয়েছে, অথবা আত্মসমর্পণ করেছে বা দলত্যাগ করে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এই কারণে সামরিক বাহিনীকে লোকসান মেটাতে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটছে।

কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন ১৯৪৮ সালে মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকে জাতিগত কারেন জনগণের জন্য স্ব-শাসনের দাবিতে লড়াই করছে। যদিও এই বাহিনী ১৯৯০-এর দশকে সরকারি বাহিনীর হাতে পরাজিত হয় এবং ২০১৫ সালের পর তারা দেশটির জাতীয় যুদ্ধবিরতির অংশও হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত