দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে জমে উঠেছে কেনাবেচা। বেশিরভাগ ক্রেতা নতুন কাপড় কিনতে ব্যস্ত থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষ কেনাকাটার জন্য ভিড় জমিয়েছেন পুরোনো কাপড়ের দোকানে। পুরোনো কাপড়েই হবে তাদের ঈদ।
আজ রবিবার (৭ এপ্রিল) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পৌর বাজারের পুরাতন ব্রীজের পুরোনো কাপড়ের দোকানে কাপড় ক্রয় করতে দেখা যায় ক্রেতাদের।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দোকানে থরে থরে সাজানো পায়জামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি, লুঙ্গি। মেয়েদের জন্যও রয়েছে নানা রকমের সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক, লেহেঙ্গা, বোরকাসহ আরও অনেক কিছু। তবে এসব পোশাকের কোনোটিই নতুন নয়। মানুষের ব্যবহার করা পোশাক ধুয়ে এসব ব্যবহারের উপযোগী করে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
উপজেলার উচাখিলা, আঠারবাড়ি ও পৌর এলাকার পুরোনো কাপড়ের বাজারে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় মিলছে শার্ট, ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় প্যান্ট, ৪৫ টাকা থেকে ১২০ দরে শাড়ি। ৪০ থেকে ৭০ টাকায় লুঙ্গি, ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় ছোট বাচ্চাদের গেঞ্জি, ৫০ থেকে ৮০ টাকায় সালোয়ার কামিজ। পাওয়া যাচ্ছে বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন ধরনের আইটেম। এসব কাপড়ের গুণগত মান অনুযায়ী দাম কম বেশি হয়। নারী পুরুষসহ সব বয়সী ক্রেতারা কিনছেন তাদের পছন্দের কাপড়। একাধিক ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশই স্বল্প আয়ের মানুষ। মাইজবাগ ইউনিয়নের কাঁঠাল গ্রামের খোকন মিয়া তার ছেলে মোফাসসিরকে সাথে নিয়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি কিনতে আসেন। সেখানেই কথা তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলের জন্য পায়জামা-পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। ছেলের পছন্দ হলে কিনবো।
এক ছেলেকে কোলে আরেক ছেলেকে আঙুলে ধরে পুরনো কাপড়ের মার্কেটে নিজের জন্য সালোয়ার-কামিজ কিনতে এসেছেন ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, অভাবের সংসার। ছেলেরা পুরাতন কাপড় পড়তে চায় না। তাই ছেলেদের জন্য নতুন কাপড় কিনে আমি পুরোনো সালোয়ার কামিজ কিনতে এখানে এসেছি।
আরেক ক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, বর্তমানে সব কিছুর দামেই বেশি। মার্কেটে নতুন কাপড় কিনতে গিয়ে মাথা ঘুরে গেছে। নতুন কাপড় কেনার শখ মিটে গেছে। মনে ইচ্ছে থাকলেও মার্কেট থেকে জামা কাপড় কিনার সাধ্য নাই। তাই এখান থেকে অল্প টাকার মধ্যে শার্ট ও লুঙ্গি কিনেছি।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন বলেন, ঈদে নতুন কাপড়ের মার্কেটে বেশি ভিড় থাকে, তাই তুলনামূলক বেচাকেনা কিছুটা কম। আগামী দুইদিন বেচাকেনা কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
আরেক পুরনো কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, আগামী দুইদিন বেচাকেনা বেশি হতে পারে। সামনে বৈশাখ ও বোরোধানের মৌসুম থাকায় ঈদের পরেও বেচাকেনা হবে।
