যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ, আনন্দ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঘরে ঘরে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে ঈদ। পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পর খুশির জোয়ারে ভাসছে সারা দেশ। ঈদ উপলক্ষে এরই মধ্যে রেডিও-টিভিতে-পাড়া-মহল্লায় বেজে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই চিরেচেনা গানের প্রিয় সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...।’ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
ঈদকে ঘিরে ঘরে ঘরে চলছে ফিরনি-পায়েসের আয়োজন। মেহেদিতে হাত রাঙিয়েছে কিশোরী-তরুণীরা। সকালে নতুন জামা-জুতো-টুপি পরে সদলে ঈদগাহ কিংবা মসজিদের দিকে ছুটছেন শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবক, বৃদ্ধরা। ঘরে ঘরে এখন আনন্দের বন্যা।
গতকাল বুধবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পর আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। আপনজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে অনেকেই গ্রামে ছুটে গেছেন। সেখানেই তারা একে অপরের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, জাতীয় ঈদগাহসহ সারা দেশে মসজিদ ও ঈদগাহে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনায় মুনাজাত করেন। মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। প্রত্যাশা, ঈদের দিনের দিনের মতোই সুন্দর আর আনন্দময় হোক প্রতিটি দিন।
এদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাহে প্রতি বছরের মতো এবারও নারীদের জন্য নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
এখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সচিব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের হাজারো মানুষ শ্রেণি-পেশার মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
নামাজের আগে জাতীয় ঈদগাহে হামদ, নাত ও পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করা হয়। এ ছাড়া ঈদের গুরুত্বের বিষয় আলোচনা করা হয়। নামাজ শেষে পড়া হয় খুতবা, এরপর দোয়া ও মোনাজাত। এরপর বুকে বুক মিলিয়ে হৃদয়ের উষ্ণতায়, প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হন সবাই।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের দিন সকাল ১০টায় তার বাসভবন গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, প্রবীণনিবাস, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, সেফহোমস, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র, দুস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে।
ঈদের ছুটিতে ঢাকায় ঘোরার মতো ১০ দর্শনীয় স্থান
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মিলে হারাল জার্মানিকে
আমরা ইফতার পার্টি করিনি, মানুষ সাহায্য করেছি: প্রধানমন্ত্রী