রাজধানীর ভাসানটেক কালভার্ট রোডে একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ভাসানটেক নতুন বাজার কালভার্ট রোডের ৪/১৩ নম্বর বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন মো. লিটন (৪৮), তার স্ত্রী সূর্য বানু (৩০), তাদের তিন সন্তান লিজা (১৮), লামিয়া (৭), সুজন (৮), ও লিটনের শাশুড়ি মেহরুন্নেছা (৮০)।
তাদের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ময়না বেগম জানান, লিটনের বাড়ি ময়মনসিংহ। পরিবার নিয়ে কালভার্ট রোডের দ্বিতীয়তলা বাড়িটির নিচতলায় ভাড়া থাকেন। এলাকাতেই ফার্নিচার ব্যবসা রয়েছে তার। রাতে ওই বাসায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে লিটন মশার কয়েল জ্বালানোর জন্য দিয়াশলাই জ্বালাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির ছয়জনই দগ্ধ হন। তিনি জানান, বাসাটিতে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে রান্না করতেন তারা। সবাই ধারণা করছেন, সিলিন্ডার থেকে লিকেজের কারণে বাসায় গ্যাস জমেছিল। মশার কয়েলের জন্য দিয়াশলাই জ্বালাতেই সেই গ্যাস থেকেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, লিটনের শরীরের ৬৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রী সূর্য বানুর ৮২, লিজার ৩০, লামিয়ার ৫৫, সুজনের ৪৩ ও মেহরুন্নেছার ৪৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ২ : গাজীপুরে একটি বাড়ির কক্ষে লিকেজ থেকে জমা হওয়া গ্যাসের বিস্ফোরণে শিক্ষার্থীসহ দুজন দগ্ধ হয়েছেন। গত রবিবার দুপুরে গাজীপুর সদর থানার শিমুলতলী সালনা রোড এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ টাওয়ার’ নামে আটতলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. ফারহান হাসান (২৬) এবং ওই ভবনের কেয়ারটেকার খাইরুল ইসলাম (৩৬)। ফারহানকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ফারহানের আত্মীয় ফরহাদুল আবেদীন বলেন, ‘ফারহান ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন।
বাড়ি থেকে ফিরে রবিবার দুপুরে তার বাসায় বাতি জ্বালানোর জন্য সুইচ চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চশব্দে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা- হয়। ওই ঘরে গ্যাস লিকেজ হয়ে জমেছিল। বাতি জ্বালাতে গিয়ে সুইচের স্পার্কিং থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
