রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা শুরু

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৭ এএম

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও এখনো কার্যত ঢাকা ফাঁকা। গতকাল সোমবার বাস টার্মিনালগুলো ও সদরঘাট লঞ্চঘাটে গেলে এ দৃশ্য দেখা যায়। যদিও গতকাল সব অফিস-আদালত খুলেছে। উপস্থিতি তুলনামূলক অনেক কম। 

যাত্রীরা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিল। যাওয়ার সময় কষ্ট হলেও ফিরতি যাত্রায় অনেকটা স্বস্তিতে তারা ঢাকায় পৌঁছান। কোথাও কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। বিশেষ করে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় বাসযাত্রীরা নির্বিঘেœ দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় ফিরতে পেরেছেন।

সরেজমিনে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে সকালের দিকে কিছুটা যাত্রী দেখা যায়। তাদের বেশিরভাগ অফিসগামী যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে সদরঘাটেও লঞ্চে করে যাত্রীরা ঢাকায় আসেন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সিলেট থেকে আসা মো. রফিক নামে এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রামে যাওয়ার সময় ভোগান্তির মধ্যে গেলেও ফেরার পথে রাস্তায় কোনো যানজট ছিল না। তাই খুব কম সময়ে ঢাকায় চলে এসেছি। আজকে থেকে অফিস খোলা, তাই তড়িঘড়ি করে ঢাকায় আসা। ছেলেমেয়েকে বাড়ি রেখে এসেছি। তারা কদিন পর ঢাকায় আসবে।’  যশোর থেকে আসা আরেক যাত্রী মিজান মিয়া বলেন, ‘সকালে অফিস ধরার জন্য চলে আসতে হলো। এবার ঈদের ছুটি ও পহেলা বৈশাখের ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় ভালোই কাটালালাম। আগের থেকে ঈদ যাতায়াত ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।’

বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেখা যায়, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭৮টি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে সদরঘাটে এসেছে। ঘরে ফেরা মানুষের চাপ সামলাতে প্রায় সব লঞ্চ ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে ফের যাত্রী আনতে দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করছেন। ভোলা থেকে আসা রিয়াজ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘বাস থেকে লঞ্চে যাতায়াত করা খুব আরামদায়ক। তাই বাসে না এসে লঞ্চে এলাম। তবে আগের মতো এত ভিড় নেই এই সদরঘাট টার্মিনালে।’

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর যাতায়াতের প্রধান প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু হয়ে এবার ঈদের ছুটিতে ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫৫৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে এই পাঁচ দিনে সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ৫২ হাজার  ৭০০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্র্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৯ এপ্রিল ৩০ হাজার ৩৩০, ১০ এপ্রিল ১৭ হাজার ৫০৫, ১১ এপ্রিল ১১ হাজার ১৯৪, ১২ এপ্রিল ১৫ হাজার ৮৮৩ এবং ১৩ এপ্রিল ১২ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন পদ্মা সেতু পার হয়েছে। এতে এ প্রান্ত দিয়ে এ পাঁচ দিনে টোল আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৮ হাজার ৫৫০ টাকা। জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পাঁচ দিনে যথাক্রমে ১৪ হাজার ৮৭৪, ৮ হাজার ৫১০, ৭ হাজার ৪৬৫, ১২ হাজার ১০০ এবং ১৫ হাজার ৫৯৬টি যানবাহন পদ্মা সেতু পার হয়েছে। এতে এই প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টাকা। সেতু বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এবার ঈদে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার গত বছরের তুলনায় কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে টোল আদায়ের পরিমাণও। গত ঈদুল ফিতরের সময় ২০ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৭৮টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫০ টাকা। এ বছরের হিসাবে যানবাহন কমেছে ১৭ হাজার ২২৫টি। টোলের পরিমাণও কমেছে গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫০ টাকা।

ট্রেনযাত্রীদের স্বস্তির যাত্রা : ঈদ উপলক্ষে অন্যান্যবার যাত্রীদের বাড়ি যাওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে নানারকম অসন্তোষ থাকলেও এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। ঈদের আগাম টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে ট্রেনে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রেলওয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সেবার মান আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। গত ৩ এপ্রিল থেকে রেলপথের যাত্রীদের আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা শুরুর পর থেকে কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত এখনো কয়েকটি ট্রেন সামান্য কিছু দেরিতে স্টেশন ছাড়লেও কোনো সিডিউল বিপর্যয় হয়নি। ট্রেনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও অনেকটা আরামেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন মানুষ। অনলাইন টিকিট যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি যাওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরার আনন্দময় যাত্রায় শামিল হতে পেরে যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল খুশির ঝিলিক।

জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদে যাত্রীরা নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পেরেছে। টিকিট নিয়ে কালোবাজারি ছিল না। যাত্রীদের এই স্বস্তি আমাদের জন্য অনেক আনন্দদায়ক, বড় প্রাপ্তি। আসলে মানুষের মঙ্গলের উদ্দেশে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি করা যায়। এবারের ঈদে মানুষ যাতে নির্বিঘেœ ও নিরাপদে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য নানারকম প্রস্তুতি ছিল। এসব উদ্যোগ এবং সবার আন্তরিকতার কারণেই মানুষ স্বস্তিতে ঈদে ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা করতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, রেলপথের সম্ভাবনা অনেক। আমরা চাই রেলওয়ে একটা ভালো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। আগামীতে ট্রেনযাত্রা আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে নানারকম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত