বাস-সিএনজি চালকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৭ পিএম

পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। তাই যাত্রীদের ভিড় লেগে আছে সড়কে। আর এ অবস্থাকে পুঁজি করে কুমিল্লার লাকসামে ঢাকাগামী দূরপাল্লারসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিনিবাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এতেই ক্ষান্ত নন চালকরা। রাত যতই গভীর হয়, টাকার পরিমাণটাও ততই বাড়ান তারা। এ অবস্থায় রাতের যাত্রীরা তাদের কাছে চরম অসহায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাকসাম থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী তিশা বাসে ঈদের আগে ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। ফিরতি পথে ছিল ২৩০ টাকা। কিন্তু ঈদকে পুঁজি করে ১০০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা নিচ্ছে তিশা বাস। ঈদের এক দিন আগে থেকে বাড়তি এ ভাড়া আদায় করছেন বাসচাকলরা। সেই সঙ্গে লাকসাম থেকে কুমিল্লা যাতায়াতকারী মিনিবাসগুলো নির্ধারিত ভাড়া থেকে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে নিচ্ছে।

লাকসাম সদর থেকে মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, বাঙ্গড্ডা, খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, শাকরা, আটিটি, মুদাফরগঞ্জ, আউশপাড়া, কামড্ডা, চিতোষী, শ্রীয়াং, কালিয়াপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলোর চাকলরা যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া থেকে ৩০-৪০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেই চালক, হেলপার ও স্ট্যান্ডের কর্মী ও দালালদের হাতে নাজেহাল হতে হয়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় লাকসাম থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের মোজাম্মেল হক ও ফয়েজ আহমেদ বাইপাস তিশা বাসের কাউন্টারে আসেন। টিকেট কাউন্টারে ঢাকা যাওয়ার জন্য ২৫০ টাকার স্থলে ৩৫০ টাকা ভাড়া চাইলে তারা প্রতিবাদ করেন। অন্য যাত্রীরাও প্রতিবাদ করেন। এ সময় বাসের হেলপার, চালক, বাস স্টান্ডের কর্মীরা প্রতিবাদকারী যাত্রীদের গালাগালসহ শারীরিকভাবে নাজেহাল করেন।

অন্যদিকে, চাঁদপুর রেল গেইট থেকে মুদাফরগঞ্জ বাজার যেতে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ছিল ২০ টাকা। কিন্তু এখন এ রুটে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় ৪০ টাকা। আর ঈদের দোহাই দিয়ে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর প্রতিবাদ করলেই যাত্রীদের নাজেহাল হতে হয়।

অপরদিকে, লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জের ১২ কিলোমিটারে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। যা কিছুদিন আগেও ছিল ৩০ টাকা। কোনো কারণ ছাড়াই ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। আর ঈদ এলেই ১০-২০ টাকা থেকে শুরু করে দ্বিগুণ ভাড়াও গুণছেন যাত্রীসাধারণ।

মৃদুল নামের এক যাত্রী বলেন, লাকসাম থেকে আশিরপাড় গেলেও সিএনজি ভাড়া দিতে হয় ৪০ টাকা। অথচ আশিরপাড় থেকে মনোহরগঞ্জের ভাড়া ৩০ টাকা। লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জের কোনো বাস না থাকায় সিএনজিগুলো যাত্রীদের পকেট কাটছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা আলীয়ারা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সিএনজিযোগে লাকসাম থেকে নাঙ্গলকোট বাজারে আসি। আগের ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। এখন ৬০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে। একদিকে ঈদ, অন্যদিকে রাত ১০টা বেজে গেছে। তাই বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে। দিনের ভাড়া একা আর রাতের ভাড়াত আরেক রুকুম।

লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জের সিএনজি স্ট্যান্ডের পরিচালক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখান থেকে সিএনজিতে উঠলেই ৪০ টাকা দিতে হবে। যাত্রী যেখানেই নামুক সেটা দেখার বিষয় না।

এ বিষয়ে লাকসাম-ঢাকা তিশা বাস সার্ভিসের জিএম ও লাকসাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আ. লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঈদের সময় ঢাকা থেকে লাকসাম আসার সময় কোনো যাত্রী পাই না। তাই ঢাকা যেতে ১০০ টাকা বেশী ভাড়া নিচ্ছি। হিসেব করলে ডাবল ভাড়া নিতে হয়। অন্যান্য বাসগুলোও বেশি ভাড়া নিচ্ছে। এতে দোষের কিছু দেখছি না।

যাত্রীদের নাজেহাল করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোনো লোক যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করেনি। অন্য কেউ করতে পারে।

এ ঘটনায় তিশা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন বলেন, কোনো যাত্রীকে নাজেহাল করা হয়নি। এ সময় ভুক্তভোগী যাত্রীদের মুখোমুখি করলে তিনি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এমন ঘটনা আর না হওয়ার অঙ্গীকার করে পার পান।

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো যাত্রীকে নাজেহাল করা হলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত