বগুড়ায় বৈশাখী মেলায় ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম

মঞ্চে লড়াইয়ে মেতেছে 'সম্রাট ও রকি', তাদের লড়াই দেখে দর্শকরা উচ্ছ্বসিত। এরপর মঞ্চে ওঠে 'কালা মানিক ও লাল মানিক'। বগুড়ায় আনন্দ উচ্ছ্বাস নিয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই উপভোগ করেছেন বৈশাখী মেলার দর্শকরা। বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের পৌর এ্যাডওয়ার্ক পার্কে ৪৩তম বৈশাখী মেলায় এ খেলার আয়োজন করে বগুড়া থিয়েটার। বাংলার গ্রামগঞ্জের এক সময়ের জনপ্রিয় এ খেলা এখন বিলুপ্তপ্রায়। 

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের চতুর্থ দিনে আয়োজিত এই মোরগ লড়াইয়ে অংশ নেয় বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার ৪টি লড়াকু মোরগ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী লড়াইয়ে প্রথমে একটি করে জুটি মোরগ মুখোমুখি হয় প্রতিপক্ষের। পর্যায়ক্রমে প্রাণপণে লড়তে থাকে মোরগগুলো। লড়াইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতালির মাধ্যমে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শকরা।

লড়াইয়ে নামা মোরগ রকির পালক বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি এলাকার জিসান, কালা মানিক মোরগের পালক  শহরের কাটনারপাড়ার রাকিব শাহ, একই এলাকার সম্রাটের পালক মুন্না ও লাল মানিকের পালক শুভ। তাদের মোরগ গুলো আছিল জাতের। তাদের সকলেই বগুড়া কক ফাইট ক্লাবের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মোরগ লড়াইয়ে অংশ নেন।

খেলা দেখতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জীবনে এই প্রথম মোরগ লড়াই সরাসরি দেখলাম। খুব আনন্দ পেয়েছি। এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।

হোমিও চিকিৎসক ডা. এসএম মিল্লাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা গ্রামে মোরগ লড়াই দেখেছি। সে সময় বেশ উৎসাহ আর উদ্দীপনা ছিল। বলা যায়, এসব খেলা আমাদের প্রাণের খেলা। আজ আমরা অনেক খেলাই হারিয়ে ফেলেছি। এমন উদ্যোগে হয়তো খেলাগুলো আবার ফিরে আসবে।

বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না বলেন, বৈশাখী মেলায় নতুন প্রজন্মের সামনে বিলুপ্তপ্রায় খেলাগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠি খেলা, পাতা খেলা, সাপ খেলারও আয়োজন করা হয়। নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি উদ্ধার ও লালনে যেন মনোযোগী হয়ে ওঠে নতুন প্রজন্ম। মূলত এ ভাবনা থেকেই গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি প্রতি বছরই হয়ে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত